বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ জানুয়ারি শনিবার ঢাকার চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম‑খুনের শিকার পরিবারকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। “আমরা বিএনপি পরিবার” ও “মায়ের ডাক” দুই সংস্থার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং অতীত সরকারের অধীনে নিঃশব্দে নিখোঁজ, হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকারদের পাশে দলটি থাকবে বলে জানান।
সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বহু বছর ধরে স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা মানুষদের জন্য বিএনপি সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেছে। তিনি নিজের এবং দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা গুম‑খুনের শিকারদের জন্যও সমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। যদিও সীমাবদ্ধতা ছিল, তবু তারেকের মতে, দলটির আন্তরিকতা কখনো কমেনি এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তারেক রহমান গুম‑খুনের শিকারদের সংখ্যা ও তাদের কষ্টের পরিমাণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতের শাসনকালে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে অত্যাচার করা হয়েছে এবং গুমের শিকার হওয়া মানুষদের পরিবারগুলো এখনো কষ্টে আছে। ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সময় এক কোটি পনেরো লক্ষের বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার ফলে ছয় কোটি নেতাকর্মীকে দায়ভার বহন করতে হয়। এই মামলাগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে চিহ্নিত করেন।
বিএনপি নেতারা অতীতের ১৬ বছর ধরে গুম‑খুনের শিকারদের কোনো গোপন কৌশল গড়ে তোলেননি, বরং সরাসরি রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে এসেছে বলে তিনি জোর দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুম‑খুনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য বিএনপি সর্বোচ্চ মাত্রায় সহযোগিতা প্রদান করবে এবং ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে এই শহীদ পরিবারের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনা নামকরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সভার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশব্যাপী গুম‑খুনের শিকার পরিবারের স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তারা কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাদের প্রিয়জনকে বাসা, অফিস বা রাস্তায় থেকে হঠাৎই নিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অনেকেই এখনও জানেন না নিখোঁজদের শেষ অবস্থা কী। তারা ন্যায়সঙ্গত বিচার ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অবশ্যই, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করা হয়েছে। সরকার বলেছে, গুম‑খুনের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যভিত্তিক এবং কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নয়। এছাড়া, সরকার দাবি করে যে দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো আইনগত ভিত্তিতে এবং মানবাধিকার সংরক্ষণে যথাযথ হয়েছে।
বিএনপি ও সরকারের মধ্যে এই বিরোধের পটভূমি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আরও তীব্র হতে পারে। তারেক রহমানের মতে, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে গুম‑খুনের শিকার পরিবারগুলোর সম্মান রক্ষার জন্য সড়ক, সেতু ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সরকার এই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং বলেছে যে কোনো নামকরণ প্রক্রিয়া আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হবে।
এই আলোচনাসভা গুম‑খুনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তারা তাদের কষ্ট শেয়ার করতে পেরেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুম‑খুনের বিষয়টি এখনো একটি সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে, যা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে কীভাবে সমাধান হবে তা নির্ধারিত হবে।



