19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের ইরান আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বিবেচনা বলে জানালেন

ট্রাম্পের ইরান আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বিবেচনা বলে জানালেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ১৬ জানুয়ারি ফ্লোরিডা থেকে মিডিয়ার সামনে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ না করার কারণ নিজের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, কোনো বিদেশি শক্তি বা কোনো দেশের পরামর্শ তাকে প্রভাবিত করেনি। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইরানের সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনকে মূল প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, এসব পরামর্শ তাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করেনি এবং সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ তার নিজের বিবেচনা।

ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ওপর ট্রাম্পের মনোভাব গঠিত হয়েছে। ইরান সরকার সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরী প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। এই পরিবর্তনকে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের প্রতি সম্মানসূচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

বহু মানবাধিকার সংস্থা পূর্বে ইরানে বিক্ষোভ দমনকালে ব্যাপক সহিংসতা, আটক ও মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশ করেছিল। সেই সময়ে শত শত মানুষকে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠে আসত। তবে ইরান কর্তৃপক্ষের এই কঠোর নীতি থেকে সরে এসে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।

ট্রাম্পের নিজের সামাজিক নেটওয়ার্ক ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি ইরানের নেতৃত্বকে “অত্যন্ত সম্মান” জানিয়ে বলেন, “যারা নির্ধারিত ফাঁসিকে বাতিল করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ।” এই পোস্টটি ইরানের মানবাধিকার নীতি পরিবর্তনের প্রতি তার ইতিবাচক স্বীকৃতি প্রকাশ করে।

হোয়াইট হাউসের পূর্ববর্তী বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ৮০০টি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড ‘স্থগিত’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে এই তথ্যের সামঞ্জস্য ইরানের নীতি পরিবর্তনের বাস্তবতা তুলে ধরে।

ট্রাম্প বারবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি প্রয়োজন। তার ভাষ্য থেকে স্পষ্ট হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাগরিক অধিকার রক্ষায় সমর্থন প্রদান করতে ইচ্ছুক।

একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর ফাঁসির কার্যকরী ব্যবস্থা পুনরায় শুরু হয়, তবে তেহরানকে “খুব কঠোর পদক্ষেপের” মুখোমুখি হতে হবে। এই সতর্কতা ইরানের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ইরানের সরকার বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং এসব ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে। ইরানি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপকারী হিসেবে সমালোচনা করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ইরানের রাষ্ট্রীয় বর্ণনার মধ্যে পারস্পরিক বিরোধকে উন্মোচিত করে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ট্রাম্পের এই স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ইরান মানবাধিকার নীতি বজায় রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নরম দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের কোনো কঠোর পদক্ষেপ পুনরায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ইরান আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব বিবেচনা এবং ইরানের সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে এবং উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments