বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। সমাবেশটি জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও অবৈধ অস্ত্রের উদ্ধার দাবিতে সংগঠিত হয়েছিল, যেখানে দুদু নির্বাচনের গুরুত্ব ও বর্তমান সরকারের সময়সীমা সম্পর্কে বিশদভাবে মন্তব্য করেন।
দুদু উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান সরকার আর দীর্ঘদিন টিকে থাকবে না; এক মাসেরও কম সময়ে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠন হবে, এবং যদি তা দেশপ্রেমিক হয়, জনগণের অনুভূতি ধরতে পারে, তবে দেশের সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্ধারিত এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুদু সতর্ক করেন, নির্বাচনে ভুল হলে সরকার ও জনগণ উভয়ই দায়বদ্ধ হবে, এবং দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি অতীতের পাঁচ-ছয়টি নির্বাচনের ফলাফলকে তামাশা হিসেবে বর্ণনা করে, ভোটারদের অংশগ্রহণের অভাব ও ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের, বিশেষ করে শেখ হাসিনার, নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে তিনি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, এবং বলেন যে এই নির্বাচনের বৈধতা কেবলমাত্র বিদেশি সমর্থন, যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
দুদু আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এখনও নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করা জরুরি, কারণ এটি দেশের সামগ্রিক মঙ্গলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের সচেতনতা আছে, তবু এখনো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রতিবাদ সমাবেশে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও অবৈধ অস্ত্রের উদ্ধার দাবি করা অংশগ্রহণকারীরা দুদুর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, নির্বাচনের আগে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে, সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকার যথার্থতা ও স্বাধীন মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
দুদু শেষ কথা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন একমাত্র সমাধান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার দেশের স্বার্থে কাজ করবে, আন্তর্জাতিক চাপের বদলে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। ভবিষ্যতে যদি নির্বাচনের ফলাফল জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে, তবে দেশের রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পাবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হবে।
এই সমাবেশ ও দুদুর মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যেখানে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, আইনশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের বিষয়গুলো পুনরায় বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদের নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হবে, এবং সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের জন্য এটি একটি দায়িত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।



