ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধ‑পরবর্তী পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেশটির একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। দলটি ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তার শর্তাবলী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল ডেভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের ভিত্তি তৈরি করা।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ডেভোসে অনুষ্ঠিত ফোরামের পার্শ্বিক সেশনে এই নথিগুলো স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন ইতিমধ্যে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং পুনর্গঠন প্যাকেজের খসড়া প্রস্তুত করেছে এবং এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
কিয়েভে চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেলের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি এবং রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ, তবে রাশিয়ার প্রকৃত অবস্থান এখনও অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, ইউক্রেনের দল মার্কিন পক্ষের সঙ্গে ভাল কাজ করেছে, তবে কিছু বিষয়ের উপর মতবৈষম্য রয়ে গেছে। তিনি এই পার্থক্যগুলো সমাধানের জন্য অতিরিক্ত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর, দু’পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা বাড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ‑পরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনার জন্য ইউক্রেন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে অনুমান করেছে। এই পরিমাণের মধ্যে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, শরণার্থী পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা গ্যারান্টি সংক্রান্ত নথিপত্রও একই সঙ্গে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাশিয়ার কোনো আক্রমণ থামাতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিষিনা জানিয়েছেন, শনিবার মিয়ামিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। তিনি ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, এই সফরের লক্ষ্য হল মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করা এবং ডেভোসে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিশ্চিত করা।
প্রতিনিধি দলে প্রেসিডেন্ট দফতরের প্রধান কিরিলো বুদানভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ এবং জেলেনস্কির সংসদীয় দলের প্রধান দাভিদ আরাখামিয়া অন্তর্ভুক্ত। এই তিনজন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং পুনর্গঠন প্যাকেজের মূল বিষয়গুলো সরাসরি আলোচনা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে একটি শান্তি কাঠামোর ওপর একমত হতে চাপ দিচ্ছে, যা পরবর্তীতে রাশিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হবে। কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা নিশ্চিত করতে চান, ভবিষ্যতে ইউক্রেন পুনরায় রাশিয়ার আক্রমণের শিকার না হয়।
যুদ্ধের চার বছর পর, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং পুনর্গঠন প্যাকেজের চূড়ান্ত রূপে পৌঁছাতে এখনও কিছু বিষয়ের সমন্বয় প্রয়োজন, তবে ইতিবাচক অগ্রগতি স্পষ্ট।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো দেশগুলোর সমর্থনও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের ওপর নির্ভরশীল, যা ডেভোসে স্বাক্ষরের পর দ্রুত কার্যকর হবে।
সামগ্রিকভাবে, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলাফল ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার দিক নির্ধারণ করবে। ডেভোসে স্বাক্ষরিত চুক্তি যদি সফল হয়, তবে তা রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



