মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুইজন রিপাবলিকান সেনেটর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখে ভারতীয় ডাল শস্যের ওপর আরোপিত শুল্কে হ্রাসের অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা দুইটি রাজ্য ডাল শস্য উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে। বিশেষ করে মটর, মসুর ও অন্যান্য ডাল জাতীয় ফসলের উৎপাদন এখানে উচ্চ মাত্রায় হয়। এই রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য শুল্ক হ্রাসের দাবি তুলে ধরেছেন।
সেনেটর স্টিভ ডেনিস ও কেভিন ক্র্যামার যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের স্বার্থকে রক্ষা করার পাশাপাশি ভারতীয় বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডাল শস্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপের পক্ষে মত পোষণ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, ভারত বর্তমানে মসুর, ছোলা এবং শুকনো মটরের মতো ডাল শস্যের বড় গ্রাহক এবং এই পণ্যের বেশিরভাগই আমদানি করে।
ভারতীয় বাজারে ডাল শস্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি শিল্পের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শুল্কের উচ্চতা রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলকতা কমিয়ে দেয় এবং ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য দাম বাড়িয়ে দেয়। শুল্ক হ্রাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকৃত ডাল শস্যের দাম কমে যাবে, ফলে ভারতীয় বাজারে তাদের শেয়ার বাড়তে পারে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুল্ক হ্রাসের সম্ভাব্য প্রভাব স্পষ্ট। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের ডাল শস্য রপ্তানিকারকরা নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা কৃষক ও রপ্তানিকরণ সংস্থার আয় বাড়াবে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় ভোক্তাদের জন্য দাম কমে যাওয়ায় ডাল শস্যের চাহিদা বাড়তে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, শুল্ক হ্রাসের ফলে ভারতীয় সরকারকে তার বাজেটের আয় থেকে একটি অংশ হারাতে হবে, কারণ শুল্ক রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে। তাই এই বিষয়টি ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের জন্য আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল।
বাণিজ্য আলোচনায় এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি সেনেটরদের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তির পরবর্তী রাউন্ডে ডাল শস্যের শুল্ক হ্রাসকে অগ্রাধিকার দিতে বলছেন। এই প্রস্তাবটি ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতি গঠনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডাল শস্য রপ্তানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে, ভারতীয় বাজারে ডাল শস্যের গড় দাম ৫-৭ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, শুল্ক হ্রাসের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার বিষয় হতে পারে। দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তুলতে সময় লাগতে পারে, বিশেষ করে যখন অন্যান্য পণ্যশ্রেণীর ওপরও বাণিজ্যিক বিরোধ চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে, কৃষি সংস্থা ও রপ্তানিকরণ সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে সম্ভাব্য শুল্ক হ্রাসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা নতুন বাজার গবেষণা, লজিস্টিক পরিকল্পনা এবং মূল্য নির্ধারণের কৌশল গড়ে তুলছে, যাতে শুল্ক হ্রাসের পর দ্রুত বাজারে প্রবেশ করা যায়।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই রিপাবলিকান সেনেটরের চিঠি ভারতীয় ডাল শস্যের শুল্ক হ্রাসের দাবি তুলে ধরেছে, যা উভয় দেশের কৃষি ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রভাবিত করবে। শুল্ক হ্রাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাড়বে, ভারতীয় ভোক্তাদের জন্য দাম কমবে, তবে ভারতীয় রাজস্বে প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি বাণিজ্য আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।
টেকঅ্যাওয়ে: শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের ডাল শস্য রপ্তানিতে উত্সাহ যোগাবে, তবে ভারতীয় শুল্ক রাজস্বে হ্রাসের ঝুঁকি থাকবে; উভয় দেশের নীতি নির্ধারকদের জন্য সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল প্রয়োজন।



