বাংগ্লাদেশের নারী ফুতসাল দল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ৩-৩ সমান স্কোরে শেষ করেছে। ম্যাচটি ননথাবুরি স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ৩-১ পিছিয়ে থেকে তৃতীয় গোলের মাধ্যমে সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
প্রথমার্ধের শুরুতেই ভুটানই পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রথম গোল করে লিড নেয়। তবে বাংলাদেশের মিডফিল্ডার মাতসুশিমা সুমাইয়া মাঝখানে থেকে শক্তিশালী লং-রেঞ্জ শট মারিয়ে সমতা ফিরিয়ে আনে, ফলে স্কোর ১-১ হয়।
দু’টি দলই সমানভাবে খেলায় এগিয়ে যায়, তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ভুটান আবার আক্রমণ বাড়িয়ে ৩০ মিনিটে তৃতীয় গোলের মাধ্যমে ৩-১ বাড়িয়ে দেয়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ একাধিক সুযোগ সৃষ্টির পরেও স্কোর বাড়াতে পারে না।
দলটি তৎপরতা দেখিয়ে ত্বরিত প্রত্যাবর্তন শুরু করে। ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন ব্যক্তিগত দক্ষতা দিয়ে একক গোল করে পার্থক্য কমায়। তার পরপরই মাসুরা পারভীন প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতা বজায় রাখে, ফলে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে স্কোর ৩-৩ হয়।
গোলের পর বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে জয় পেতে চায়, তবে ভুটানের প্রতিরক্ষা দৃঢ় থাকে এবং অতিরিক্ত সময়ে কোনো গোল না হয়ে ম্যাচটি সমান স্কোরে শেষ হয়। দুই দলই এক পয়েন্ট করে নিয়ে যায়, যা টুর্নামেন্টের শীর্ষে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশের কোচ ম্যাচের পর দলের দৃঢ়তা ও মনোবল প্রশংসা করেন, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দলটির আক্রমণাত্মক মনোভাবকে উল্লেখযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং পরবর্তী ম্যাচে এই শক্তি বজায় রাখতে হবে।
ভুটানের কোচও দলের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দ্রুত আক্রমণকে প্রশংসা করেন, যদিও শেষ মুহূর্তে গোল না করতে পারা তাদের জন্য হতাশার কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি টুর্নামেন্টের বাকি অংশে আরও উন্নতি করতে পারবে।
এই ম্যাচে মোট ছয়টি গোলের মধ্যে তিনটি বাংলাদেশ এবং তিনটি ভুটানের হয়ে থাকে, যা উভয় দলের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা প্রকাশ করে। ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, উভয় দলের শুটিং শটের সংখ্যা সমান, তবে গোলের গড় দূরত্বে পার্থক্য দেখা যায়।
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে শ্রীলঙ্কা, যা ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত। দলটি এই ম্যাচে পয়েন্ট বাড়িয়ে টুর্নামেন্টে অগ্রগতি করতে চায়। শ্রীলঙ্কা দলও একই সময়ে তাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টুর্নামেন্টের মোট তিনটি দলই এখন পর্যন্ত একে একে এক পয়েন্ট নিয়ে আছে, ফলে গ্রুপ পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল টেবিলকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। দলগুলোর পারফরম্যান্স ও কৌশল বিশ্লেষণ করা হবে পরবর্তী রাউন্ডে।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল মাতসুশিমা সুমাইয়ার লং-রেঞ্জ শট, ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুনের একক গোল এবং মাসুরা পারভীনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া। এই তিনজন খেলোয়াড়ের অবদান দলকে সমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ম্যাচের শেষের দিকে উভয় দলের সমর্থকরা স্টেডিয়ামে উল্লাসের সাথে উপস্থিত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক স্তরে নারী ফুতসালের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করেছে। এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলো ভবিষ্যতে আরও বেশি দর্শক আকর্ষণ করবে বলে আশা করা যায়।
সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে এই সমান স্কোরের ম্যাচটি টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। উভয় দলই পরবর্তী ম্যাচে আরও উন্নত কৌশল ও শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে, যা সাফ নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপকে আরও রোমাঞ্চকর করবে।



