ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট‑ধোবাুড়া) নির্বাচনী এলাকার ধোবাুড়া উপজেলায় গত সন্ধ্যায় এক সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ৬ টার দিকে এরশাদ বাজারে স্বাধীন প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধনের পর দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে নাজরুল ইসলাম, ৪০, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
মৃতদেহের পরিচয় রামসিংহপুর গ্রাম, সাউথ মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজরুল ইসলাম হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ধোবাুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার মতে, উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সমাবেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুই দলের মধ্যে তর্ক বাড়ে এবং তা দ্রুতই হিংসাত্মক রূপ নেয়। গুলিবিদ্ধের সময় নাজরুল ইসলাম গলায় আঘাত পান, যা তার প্রাণহানি ঘটায়।
অতিরিক্ত সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ফাইন্যান্স) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধের সময় দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্যপট পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
গুলিবিদ্ধের পরে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধোবাুড়া থানা অফিসার ইন চার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
সালমান ওমর রুবেল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে, তার সমর্থক নাজরুল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ করার দায়িত্বকে বিএনপি প্রার্থী ও তার কর্মীদের ওপর আরোপ করেন। তিনি দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনি ব্যবস্থা চেয়ে বলেন, “আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো সহিংসতা সহ্য করা হবে না।”
বিএনপি প্রার্থী ও পার্টির যৌথ সচিব জেনারেল সৈয়দ এমরান সেলাহ প্রিন্স, যাকে গুলিবিদ্ধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, তিনি ঘটনাটিকে পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধের ফলাফল বলে ব্যাখ্যা করেন। প্রিন্স বলেন, “যদি আমার কর্মীরা এমন অপরাধে জড়িত হয়, তবে পুলিশকে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি এ ধরনের কাজের কোনো সহনশীলতা রাখি না।”
পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধের সময় দুই দলের মধ্যে পূর্বে কিছু ব্যক্তিগত বিরোধের ইতিহাস রয়েছে, যা হঠাৎ সংঘর্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। অফিসার ইন চার্জ উল্লেখ করেন, “দুই দলের মধ্যে চলমান বিরোধই এই হিংসাত্মক ঘটনার মূল কারণ।”
গুলিবিদ্ধের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত সুপারিন্টেনডেন্টের মতে, গুলিবিদ্ধের সময় উপস্থিত গৃহস্থালির ভিডিও রেকর্ডিং এবং সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হবে।
ধোবাুড়া থানার ওসি জানান, গুলিবিদ্ধের সঙ্গে যুক্ত দুই সন্দেহভাজনকে আদালতে হাজির করা হবে এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, “এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসা সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করে, তাই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী আগামী নির্বাচনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, যাতে এমন হিংসাত্মক ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
সামগ্রিকভাবে, নাজরুল ইসলামের গুলিবিদ্ধের ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে হিংসা বাড়ার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে।



