বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার ঢাকা শহরের বাংলাদেশ‑চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম‑খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক সভায় দলের কর্মীদের সক্রিয়তা ও কৌশল সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি দলের নেতৃত্বের অটল অবস্থান, গৃহীত কৌশল এবং সরকারের বর্তমান নীতি‑প্রণয়নকে কেন্দ্র করে বিশদভাবে কথা বলেন।
প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি, গুম‑খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখেও কোনো নেতাকে রাজপথ ত্যাগ করতে দেখেনি। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ সময়ে দলের কর্মীরা একে অপরের ক্ষতি সত্ত্বেও আন্দোলনকে তীব্র করে চলেছে।
একই পরিবারের দুই ভাইয়ের উদাহরণে তিনি বলেন, একজন গুম হয়ে যাওয়ার পর অন্য ভাই তৎক্ষণাৎ তার পদে দাঁড়িয়ে আরও তীব্রতর প্রতিবাদ করার শপথ নিয়েছেন। এই ঘটনা দলীয় কর্মীদের ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ কৌশল গ্রহণ না করার স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
তারেক রহমানের মতে, বিএনপির কর্মীরা কোনো গোপন কৌশল গড়ে তুলছেন না; বরং তারা সরাসরি, দৃঢ় ও স্বচ্ছভাবে তাদের লক্ষ্য অনুসরণ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৌশলের নামে কোনো গোপন পরিকল্পনা না থাকলেও দলটি অবিচলভাবে কাজ করে চলেছে।
এই বক্তব্যটি গুম‑খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার সময় প্রকাশিত হয়। সভায় উপস্থিত পরিবারগুলোকে সরকারের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি জানাতে দেখা যায়।
তারেক রহমান বলেন, দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল অবস্থান বজায় রাখবে এবং কোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার দলকে দমন করতে পারবে না। তিনি ঈমানের সঙ্গে প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দলকে দমন করার কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে, ইনশাআল্লাহ।
বিএনপি চেয়ারম্যান রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপরও আলোকপাত করেন, বিশেষ করে গুম‑খুন ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গঠন এবং শহীদদের ত্যাগকে জনমনে রক্ষা করা সরকারের অপরিহার্য দায়িত্ব।
এই দায়িত্ব পালন করতে দল কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তবে নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে তিনি আজকের সভায় সেসবের বিশদ প্রকাশ করতে পারছেন না। তিনি স্বীকার করেন, পরিকল্পনাগুলো শহীদদের স্মরণীয় করে তোলার পাশাপাশি দলের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ দলের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তবে দলটি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দেখাবে।
তারেক রহমানের বক্তব্যে দলীয় কর্মীদের সতর্কতা ও সক্রিয়তা বজায় রাখার আহ্বানও অন্তর্ভুক্ত। তিনি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যকে তুলে ধরে, জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি কিছু গোষ্ঠীর প্রচেষ্টা উল্লেখ করেন, যারা বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পথকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করেন, এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি বিপন্ন হতে পারে।
সর্বশেষে, তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি তার অটল নীতি ও কৌশল বজায় রেখে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং শহীদদের ত্যাগকে সর্বদা স্মরণীয় রাখবে।



