কানাডা সম্প্রতি চীনের উৎপাদনকারী থেকে প্রায় ৪৯,০০০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি ক্রয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী দপ্তরগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। আমেরিকান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কানাডা এই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতাপ অনুভব করতে পারে এবং চীন থেকে আসা গাড়িগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রধানের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, কানাডা যখন চীনা গাড়ি বাজারে আনবে, তখন তা পুনর্বিবেচনা করবে এবং শেষ পর্যন্ত অনুশোচনা করবে। এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত উদ্বেগ রয়েছে, যে চীনের স্বয়ংচালিত শিল্পের উত্তর আমেরিকায় প্রভাব বাড়তে পারে, বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে কানাডিয়ান গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পথে রয়েছে।
বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উল্লেখ করেছেন, যদিও গাড়ির সংখ্যা সীমিত, তবু এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বয়ংচালিত শিল্পে সরাসরি বড় প্রভাব ফেলবে না। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, কানাডার গাড়ি সরবরাহ শৃঙ্খলে এই প্রবাহের ফলে কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটবে না এবং কানাডিয়ান বাজারে আমেরিকান সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তকে “সমস্যাযুক্ত” বলে বর্ণনা করে, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বাজারে চীনা পণ্য সীমিত রাখার পেছনে শুল্ক নীতি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার কারণ উল্লেখ করেছেন।
বেইজিংয়ে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আলোকে, কানাডা ১ মার্চের মধ্যে চীনের ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে কমানোর পরিকল্পনা করেছে। গ্রিয়ার এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে, তিনি বলেন যে এই ধরনের হ্রাসের ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্র জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন সাইবার নিরাপত্তা নিয়ম প্রয়োগ করবে, যা ইন্টারনেট ও নেভিগেশন সিস্টেম যুক্ত গাড়ির জন্য বাধ্যতামূলক মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এই বিধান চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশকে কঠিন করে তুলবে, কারণ তাদের পণ্যকে এই কঠোর সাইবার নিরাপত্তা মান পূরণ করতে হবে। গ্রিয়ার উল্লেখ করেন, এই নতুন নিয়মের ফলে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য মার্কিন বাজারে ব্যবসা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।
কানাডিয়ান দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ের ওপর কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, কানাডা যদি চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি চালিয়ে যায়, তবে তা দেশের গাড়ি শিল্পে নতুন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে এবং ভোক্তাদের জন্য বিকল্প বাড়াবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সাইবার নিরাপত্তা নীতি কানাডার গাড়ি রপ্তানি কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইতিমধ্যে টানাপোড়েনের মুখে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, চীনা গাড়ি কেনা কানাডার জন্য স্বল্পমেয়াদে খরচ সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাধা ও সাইবার নিরাপত্তা মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য না করলে কানাডি ডিলার ও ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, কানাডার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত উভয় দেশের বাণিজ্যিক নীতি ও স্বয়ংচালিত শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ম কানাডি বাজারে চীনা গাড়ির প্রবেশকে সীমাবদ্ধ করতে পারে, আর চীনের ক্যানোলা বীজ শুল্ক হ্রাসের চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে কানাডা-চীন বাণিজ্যের স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করবে। ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিবর্তনগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুযোগের যথাযথ মূল্যায়ন করা যায়।



