তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিন কেটে ১৫ জন দলীয় নেতা ও কর্মীর প্রাণহানি ঘটেছে, আর দেশের পার্লামেন্টারী নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদর দপ্তর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে।
হত্যা ও আক্রমণের সংখ্যা ১৫-এ পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ও পদবী সরকারী তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাগুলো একাধিক স্থানে ঘটেছে, তবে সবই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক এ.এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন জানান, নির্বাচনের কাছাকাছি এ ধরনের অপরাধের বৃদ্ধি পূর্বের বিরোধ, ক্ষমতার দখল ও হঠাৎ সংঘটিত সহিংসতার ফল। তিনি জোর দিয়ে বললেন, প্রতিটি ঘটনার আলাদা তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করার কাজ চালু আছে।
পুলিশের অনুসন্ধান দলগুলো ইতিমধ্যে কয়েকটি অপরাধস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত। জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাচনের আর ২৬ দিন বাকি থাকায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল।
বদিউল আলম মজুমদার জানান, কোনো সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয়; তাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি এও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন।
পুলিশের বর্তমান প্রস্তুতি পরিকল্পনায় নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত তহবিল ও মানবসম্পদ স্থাপন এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যবস্থা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষমতার লড়াইকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কিছু এলাকায় দলীয় সংঘর্ষের ইতিহাস ও পূর্বের বিরোধের পুনরাবৃত্তি এই হিংসা বাড়িয়ে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং আদালতে মামলা দায়ের করা। সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোকে দ্রুত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হয়।
নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করছে। এই সমন্বয়মূলক প্রচেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জনগণের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে ১৫ জন নেতা‑কর্মীর মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। পুলিশ ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধানের মন্তব্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর, এবং তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত ও গ্রেফতার কাজ চালিয়ে যাবে। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বাড়িয়ে সকল সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।



