শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে কঠোর নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে পরওয়ার উল্লেখ করেন, অলি আহমদ বীর বিক্রম মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমানে এলডিপি-র নেতৃত্বে আছেন। তিনি বলেন, এমন একজন স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পরওয়ারের মতে, এই মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ এবং এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের কৃত্রিম মামলা কেবলমাত্র বিরোধী দলের দুর্বলতা প্রকাশ করে না, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
মামলাটির প্রকৃতি সম্পর্কে বিশদে না গিয়ে, পরওয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, যদি এই মামলাটি সত্যিই মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
এলডিপি-র পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পার্টির অভ্যন্তরে এই মামলাকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। পার্টির কর্মীরা ইতিমধ্যে আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক সমর্থকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামী ও এলডিপি-র মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি মামলাটি প্রত্যাহার না হয়, তবে উভয় দলের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ বাড়তে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনী চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, পরওয়ারের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এই বিবৃতি প্রকাশের পর, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই লক্ষ্য করা গিয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চায়, অন্যদিকে এলডিপি-র নেতারা মামলাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে।
ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে আদালতের রায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই মামলার দিকনির্দেশনা। উভয় দলই জনমতকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থানকে মজবুত করার চেষ্টা করবে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে।
এই ঘটনার পর, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাটির সমাধান হবে, যাতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আইনগত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষা পায়।



