মিনেসোটা রাজ্যের গভার্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেইকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ (ডিজি) একটি ফৌজদারি তদন্তের অধীনে রেখেছে। তদন্তের বিষয় হল অভিবাসন এজেন্টদের কাজ বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গোপন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, যা একটি গোপন সূত্রের মতে প্রকাশ পেয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছেন যে ওয়ালজ ও ফ্রেইরের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে সাবপেনা প্রস্তুত করা হয়েছে, তবে এখনো তা তাদের হাতে পৌঁছেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। এই পদক্ষেপটি প্রথমবার সিবিএস নিউজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং এটি টিম ওয়ালজ ও জ্যাকব ফ্রেইরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।
মিনিয়াপলিস অঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং বর্ডার পেট্রোল এজেন্টদের সংখ্যা বাড়ার কথা উল্লিখিত হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ অনুসারে হয়েছে। উভয় রাজনীতিবিদই এই বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে থাকেন, যা এখন তদন্তের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওয়ালজ সামাজিক মাধ্যমে তদন্তের খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফেডারেল ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে এলিসা স্লটকিন, জেরোম পাওয়েল এবং মার্ক কেলি সহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এলিসা স্লটকিন ও মার্ক কেলি হলেন মিশিগান ও অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর, যারা সামরিক কর্মীদের অবৈধ আদেশের বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জেরোম পাওয়েল হলেন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান, যাকে ট্রাম্প তার মুদ্রা নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। ওয়ালজের মতে, এসব উদাহরণ দেখায় যে ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফ্রেইরও একই সময়ে সিএনএনের প্রতিবেদনের পর নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই তদন্ত তার বিরুদ্ধে মিনিয়াপলিস, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নাগরিকদের রক্ষা করার প্রচেষ্টাকে দমন করার একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা। তিনি শহরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের নীতি বিরোধিতা করার জন্য তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
ডিজি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা পোস্ট করে মিনেসোটা বাসিন্দাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে আইন সর্বজনীন এবং কেউই তার বাইরে নয়। এই বার্তাটি তদন্তের গম্ভীরতা ও ন্যায়বিচার বিভাগের অবস্থানকে তুলে ধরে।
এই তদন্তের ফলে রাজ্য ও শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়তে পারে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে। ওয়ালজের পূর্ববর্তী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থিতা এবং ফ্রেইরের স্থানীয় নীতি সমর্থনকারী গোষ্ঠীর মধ্যে এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি তদন্তের ফলাফল স্পষ্ট হয় এবং কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে এটি মিনেসোটা রাজ্যের শাসন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, যদি তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং নীতি নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
অধিকন্তু, ফেডারেল ন্যায়বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপটি অন্যান্য রাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যারা অভিবাসন নীতি ও ফেডারেল আদেশের বিরোধিতা করে থাকেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের তদন্তের সংখ্যা বাড়তে পারে, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করবে।
এই মুহূর্তে, উভয় রাজনীতিবিদই তদন্তের ব্যাপারে কোনো আইনি প্রতিক্রিয়া জানায়নি এবং তাদের আইনজীবী দল থেকে কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। তবে, তারা সামাজিক মাধ্যমে তাদের অবস্থান প্রকাশ করে চলেছেন এবং সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে, তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, মিনেসোটা ও মিনিয়াপলিসের নাগরিকরা এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন, কারণ এটি স্থানীয় শাসন ও ফেডারেল নীতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে।



