আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ড) নিরাপত্তা ও অ্যান্টি‑করাপশন বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ আগামীকাল ঢাকায় উপস্থিত হবেন, যেখানে পূর্বে পরিকল্পিত দুইজন কর্মকর্তার মধ্যে একজনের বাংলাদেশ ভিসা না পাওয়ায় তিনি একমাত্র প্রতিনিধিরূপে সফর করবেন। এফগ্রেভের সফরের মূল উদ্দেশ্য হল টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত ও শ্রীলঙ্কা পর্যায়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা, যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রাথমিকভাবে আইসিসি দুইজন কর্মকর্তাকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিষয়ে বিসিবির সঙ্গে মিটিংয়ের জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে ভিসা প্রক্রিয়ার সমস্যার কারণে ভারতীয় কর্মকর্তার ভিসা অনুমোদিত হয়নি, ফলে তিনি সফর বাতিল করতে বাধ্য হন। ফলে এখন শুধুমাত্র অ্যান্ড্রু এফগ্রেভই ঢাকায় আসছেন, এবং তার সঙ্গে বিসিবি ও সরকারী প্রতিনিধিদের আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে।
অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ আইসিসির অ্যান্টি‑করাপশন ও নিরাপত্তা বিভাগে প্রধান হিসেবে কাজ করেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা নীতি ও দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করেন। তার উপস্থিতি বিসিবি ও সরকারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সমাধানে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিসিবি সম্প্রতি জানিয়েছে যে, ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কারণ আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর দলটি ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি করে। এই প্রেক্ষাপটে বিসিবি ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নির্দেশে আইসিসিকে চিঠি লিখে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারতীয় টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ প্রত্যাখ্যানের ইচ্ছা জানিয়েছে।
চিঠি আদানপ্রদান একাধিকবার হয়েছে, তবে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে বিসিবি মিরপুরে আইসিসি প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করেছে, যেখানে সরকারী স্তরের কয়েকজন প্রতিনিধির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বৈঠক সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন, তিনি নিশ্চিত নন যে বৈঠকে শুধুমাত্র বিসিবি প্রতিনিধিরা অংশ নেবে, তবে তিনি নিশ্চিত যে অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ আগামীকাল ঢাকায় পৌঁছাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে বিসিবি সভাপতি ও সহ-সভাপতি উভয়ই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন এবং সকলের প্রত্যাশা একটি সন্তোষজনক সমাধান বের হওয়ার।
বৈঠকের ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষই নিরাপত্তা ও ভেন্যু সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাবে। আইসিসি ও বিসিবির এই মিটিংটি টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়সূচি ও স্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ দলটি নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে অংশগ্রহণে দ্বিধা প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের একক সফর এবং আইসিসির অন্য কর্মকর্তার ভিসা না পাওয়া এই মুহূর্তে বিসিবি ও সরকারকে সরাসরি নিরাপত্তা ও ভেন্যু সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করার সুযোগ দেবে, যা টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ অংশগ্রহণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



