সম্পাদকদের কাউন্সিলের সভাপতি ও নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির আজকের প্রথম মিডিয়া কনভেনশনের উদ্বোধনী ভাষণে জানিয়েছেন, স্বাধীন ও সাহসী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে। তিনি এই বক্তব্য দিলেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে, যেখানে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।
নুরুল কবির, যিনি সম্পাদকদের কাউন্সিলের প্রধান এবং নিউ এজের সম্পাদক, তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, সাংবাদিকতা নির্বাচন করা মানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সমতা ও অ-কমিউনাল সমাজের প্রতি অঙ্গীকার করা। তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরা তাদের লেখালেখি ও প্রকাশের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় অবদান রাখে।
মিডিয়া কনভেনশনটি দেশের প্রথম ধরণের ইভেন্ট, যেখানে সাংবাদিক, সম্পাদক ও মিডিয়া নেতারা একত্রে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন। নুরুলের উদ্বোধনী ভাষণটি এই ইভেন্টের মূল থিম—মুক্ত ও স্বতন্ত্র মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা—কে তুলে ধরেছে। তিনি উপস্থিত সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে মিডিয়া স্বাধীনতা বজায় থাকে।
বক্তা উল্লেখ করেন, যখন কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে আইনি বা অবৈধ উপায়ে দমন করা হয়, তখন পুরো সমাজের অধিকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, আইন, জোরপূর্বক ব্যবস্থা ও হুমকির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাহক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমন করার প্রবণতা বাড়ছে। এই ধরনের দমনমূলক কার্যকলাপের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে অধিকার হ্রাস পাবে।
নুরুল একসাথে মিডিয়া ও গণতন্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মিডিয়ার বিকাশ ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত। তাই মিডিয়া যদি সক্রিয় না থাকে, তবে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
সম্প্রতি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, এই হিংসা গণতন্ত্রের নামে ঘটছে। তিনি জানান, একটি সংবাদপত্রের অফিস ধ্বংস করা হয়েছে এবং অন্যটি আগুনে পুড়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কার উদ্দেশ্য ছিল।
নুরুলের মতে, এই ধরনের আক্রমণ বিশেষত উদ্বেগজনক, কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে স্বৈরাচারী শাসন থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পর্যায়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মিডিয়া যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে সমাজের বিভিন্ন অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দমন হবে।
বক্তা শেষ করে বলেন, মিডিয়া সংস্থাগুলোকে একত্রে দাঁড়িয়ে আইনি ও অবৈধ চাপে একসাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি সকল সাংবাদিক, সম্পাদক ও মিডিয়া কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানান। এভাবে মিডিয়া স্বাধীনতা বজায় থাকলে সমাজের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।



