ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি – সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর শনিবার সকাল ১০টার পরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেএআইবি) অনুষ্ঠিত গণমাধ্যম সম্মেলনে এক তীব্র সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান হামলা কেবল এক ঘটনার সীমা অতিক্রম করে, আগামীকাল অন্য কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হতে পারে এবং পরশুদিন আরেকটি আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।
কবীরের মতে, কোনো মিডিয়া সংস্থা যদি এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার সমর্থন করে, তা কেবল ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামলার পেছনে কোনো সমর্থন বা অনুপ্রেরণা নেই; বরং এটি মিডিয়ার স্বাধীনতা ও দায়িত্বের প্রতি আক্রমণ।
সম্মেলনের আয়োজন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে করেছে। উভয় সংস্থা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য একত্রিত হয়েছে এবং এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করেছে।
কবীর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে সংঘটিত হামলা ও আগুন জ্বালানোর ঘটনাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কেবল ভবনের ওপর আক্রমণ নয়, বরং দমকল বাহিনীর কাজ বাধা দেওয়াও একই রকমের নিষ্ঠুরতা। “যদি সভ্যতার অগ্রগতি সত্ত্বেও সাংবাদিকদের ওপর আগুনের গোলা চালিয়ে তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়, তবে তা মধ্যযুগীয় কায়দার স্পষ্ট উদাহরণ,” তিনি মন্তব্য করেন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল মিডিয়া সংস্থাকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান কবীর। তিনি জোর দেন, সমাজে বিভিন্ন মত, ভিন্ন কণ্ঠ ও বিভিন্ন ভাষা থাকা দরকার, কারণ এই বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের ভিত্তি। “মিডিয়া যদি উচ্চস্বরে কথা না বলে, তবে সমাজে অপরাধের বিস্তার বাড়ে,” তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের অ্যাসোসিয়েশন, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন মিডিয়া সংগঠন অংশগ্রহণ করে। উপস্থিতি মিডিয়ার ঐক্য ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
কবীরের বক্তব্যের মূল বার্তা স্পষ্ট: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি মিডিয়াকে আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ ঘটলে তা তৎক্ষণাৎ নিন্দা করে, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং একসাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে। এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপই মিডিয়ার স্বতন্ত্রতা রক্ষা করতে পারে এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।



