নির্বাচন কমিশন দেশীয় পোস্টাল ব্যালটের নকশা পরিবর্তন করে কেবল সংশ্লিষ্ট আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও তার চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিবর্তন সম্পর্কে শনিবার সকালে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গতরাতে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে কমিশন এই পদক্ষেপটি অনুমোদন করেছে।
বর্তমান পোস্টাল ব্যালটে সব দলের প্রতীকসহ প্রার্থীর নাম মুদ্রিত থাকে, যা ভোটারদের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করে। এই জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের জন্য গত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়। দলটি ব্যালটের সরলীকরণ দাবি করে, যাতে ভোটাররা সহজে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম ও চিহ্ন চিহ্নিত করতে পারে।
প্রতিনিধিদল প্রস্তাব করেছে যে, পোস্টাল ব্যালটকে সাধারণ ব্যালট পেপারের মতোই সরল করা হোক, যেখানে শুধুমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও চিহ্ন থাকবে। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটারদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়াকে সহজতর করা এবং অপ্রয়োজনীয় চিহ্নের কারণে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করা।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে বিপুল সংখ্যক ভোটার ব্যবহার করবেন। সব মার্কা রেখে ভোট প্রক্রিয়াকে কঠিন না করে ভোটাররা যাতে সহজে ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরলীকৃত ব্যালটের মাধ্যমে ভোটার অংশগ্রহণের হার বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
কমিশনার সানাউল্লাহের মতে, নতুন নকশা শীঘ্রই কার্যকর হবে এবং এটি দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত সকল পোস্টাল ব্যালটে একসাথে প্রয়োগ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পরিবর্তনটি ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতা ও সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহারকারী ভোটার সংখ্যা দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্য, তাই অতিরিক্ত চিহ্ন ও তথ্য বাদ দিয়ে কেবল প্রার্থীর নাম ও চিহ্ন রাখা ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলবে। কমিশনের এই পদক্ষেপটি ভোটারদের ভুল ভোটের ঝুঁকি কমিয়ে ভোটের ফলাফলকে আরও নির্ভরযোগ্য করবে।
এই নীতিগত পরিবর্তনটি পূর্বে কমিশনের অন্যান্য নির্বাচনী নীতি সংশোধনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়, যা ভোটারদের সুবিধা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াতে লক্ষ্য করে। নতুন ব্যালটের নকশা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক দলকে তা মেনে চলতে হবে।
পরবর্তী ধাপে, কমিশন নতুন ব্যালটের মুদ্রণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে, যাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়। বিশাল ভোটার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করে, এই সরলীকরণ ভোটারদের দ্রুত ও সঠিকভাবে তাদের পছন্দ প্রকাশে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, নির্বাচন কমিশনের পোস্টাল ব্যালটের নকশা পরিবর্তন ভোটারদের সুবিধা, ভোটের স্বচ্ছতা এবং প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়ানোর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ভোটের ব্যবহারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



