20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসুন্দরবন উপকূলে সফট-শেল কাঁকড়া চাষে বাজারে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের উদ্ভব

সুন্দরবন উপকূলে সফট-শেল কাঁকড়া চাষে বাজারে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের উদ্ভব

সুন্দরবনের তটবর্তী শ্যামনগর, সাতক্ষীরা জেলায়, সাম্প্রতিক দশকে সফট-শেল কাঁকড়া চাষকে প্রধান আয় উৎস হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা রপ্তানি ও স্থানীয় কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, এই অঞ্চলের পরিবারগুলো চিংড়ি চাষ, মাছ ধরা, কাঠ কাটা ও মধু সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মে চালু ছিল।

এই কাজগুলো প্রাকৃতিক বিপদ, বাঘের আক্রমণ, সমুদ্রচোরের হুমকি এবং বন্যা‑ঝড়ের ঝুঁকি বহন করত, পাশাপাশি বন সংরক্ষণ আইন মেনে চলতে হতো।

মৌসুমী মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই কয়েক মাসের জন্য আয় বন্ধ করে দিত, ফলে দৈনন্দিন জীবনের টিকিয়ে রাখার জন্য পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।

গত দশকে সফট-শেল কাঁকড়া চাষের সূচনা এই অনিশ্চয়তা দূর করার একটি নতুন পথ হিসেবে উদ্ভূত হয়েছে, যা উচ্চ উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে আসে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে এই তীব্র, রপ্তানি-কেন্দ্রিক চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে, যা ঐতিহ্যবাহী চিংড়ি ও মাছ চাষের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল আয় প্রদান করে।

শ্যামনগরে এই শিল্পটি এখন উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস, তবে একই সঙ্গে পরিবেশগত ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জও বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

এক দশক আগে পর্যন্ত কালো বাঘ চিংড়ি (বাগদা) এই অঞ্চলের জলচাষের প্রধান পণ্য ছিল, যা ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত ছিল।

বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, রোগের বিস্তার, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি এবং দামের অস্থিরতা এই চিংড়ি শিল্পকে ক্ষয়প্রাপ্ত করে, ফলে অনেক চাষী কাঁকড়া চাষে পরিবর্তন করেছে।

কাঁকড়া চাষ প্রায়ই একই লবণাক্ত পানির পুকুরে চিংড়ি চাষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে করা হয়, যা জমির ব্যবহার কমায় এবং উৎপাদন ঝুঁকি হ্রাস করে।

এই পদ্ধতি কম জমি প্রয়োজন, উৎপাদন ঝুঁকি কম এবং দ্রুত রিটার্ন দেয়, ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।

শ্যামনগরের রোহন অ্যাগ্রো ক্র্যাব ফিশারিজের মালিক রাজিব জয়দ্দার উল্লেখ করেন, কাঁকড়া রপ্তানি স্থানীয় জীবনের রূপান্তর ঘটাচ্ছে, নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলছে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

তাঁর প্রতিষ্ঠানে মাসিক প্রায় ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোগ্রাম কাঁকড়া উৎপাদন হয়, যা আঞ্চলিক বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সরবরাহ করে।

যদিও ঝড় ও লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এখনও চাষকে প্রভাবিত করে, তবে আয় এখন পূর্বের চেয়ে বেশি পূর্বাভাসযোগ্য এবং স্থিতিশীল।

মহিলারা সফট-শেল কাঁকড়া চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন; তারা ভাসমান খাঁচায় পৃথক কাঁকড়া যত্ন নেন, পানির গুণমান ও খাবার নিয়ন্ত্রণ করে মোল্ডিং প্রক্রিয়া সুষ্ঠু রাখেন।

ভবিষ্যতে এই শিল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নতি প্রয়োজন, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments