গাজীপুরের কালিগঞ্জে কুলথুন, জঙ্গলিয়া ইউনিয়নের অধিবাসী রফিকুল ইসলামকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি ১৫ বছর বয়সী কন্যার বয়স বাড়িয়ে কৃত্রিম জন্মসনদ তৈরি করে শিশিবিবাহের পরিকল্পনা করছিলেন। স্থানীয় মোবাইল আদালতে তার বিরুদ্ধে ‘শিশিবিবাহ রোধ আইন, ২০১৭’ এর ধারা ৮ অনুযায়ী দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মোবাইল আদালতটি গত বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সারওয়ার লিমা নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। জাকারিয়া ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ থানা দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইনস্পেক্টর রিয়াজুল ইসলাম। আদালতে উপস্থিত সকল কর্মকর্তার সমন্বয়ে দ্রুত তদন্ত চালু করা হয়।
সাব-ইনস্পেক্টর রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দোষীকে আজই গাজীপুরের মূল আদালতে পাঠানো হবে। তার পরবর্তী শুনানিতে মামলার বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করা হবে। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত।
মোবাইল আদালত গঠনের পেছনে ছিল শিশিবিবাহের সন্দেহজনক তথ্যের প্রাপ্তি। তথ্য পাওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিবাহের প্রস্তুতি বন্ধ করেন। প্রস্তুতি বন্ধের সময় কন্যার বয়স যাচাই করা হয় এবং কৃত্রিম জন্মসনদের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়।
প্রমাণ অনুসারে, রফিকুল ইসলাম কন্যার বয়স বাড়িয়ে দেখাতে একটি নকল জন্মসনদ তৈরি করছিলেন। নকল সনদে কন্যার জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে现场 যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত বয়স ১৫ বছর বলে নিশ্চিত করা হয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, রফিকুল ইসলামকে ‘শিশিবিবাহ রোধ আইন, ২০১৭’ এর ধারা ৮ লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই ধারা অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিবাহের প্রচেষ্টা করা হলে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করা যায়। আদালত রফিকুলকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করে।
উপজেলা প্রশাসন শিশিবিবাহকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য এর বিরোধিতা করে। প্রশাসন জানিয়েছে, শিশিবিবাহের ফলে শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে গুরুতর ক্ষতি হয়। তাই এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিশিবিবাহ রোধে উপজেলা স্তরে চলমান ক্যাম্পেইনকে অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, গৃহপরিদর্শন এবং আইনি শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সামাজিক রোগের বিস্তার রোধ করা হবে। স্থানীয় সমাজকে এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের মামলাটি আজ গাজীপুরের মূল আদালতে স্থানান্তরিত হবে, যেখানে অতিরিক্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করা হবে। আদালত থেকে চূড়ান্ত রায়ের পর, শাস্তি কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, শিশিবিবাহের প্রচেষ্টা সনাক্ত হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ত্বরিত হস্তক্ষেপ এবং মোবাইল আদালতের কার্যকরী ব্যবহার মামলাটিকে দ্রুত সমাধানের দিকে নিয়ে গেছে।
শিশিবিবাহের বিরুদ্ধে চলমান প্রচেষ্টা এবং আইনি কাঠামোর শক্তিশালী প্রয়োগ ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের সংখ্যা কমাতে সহায়তা করবে। সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত শাস্তির কঠোরতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে সকল সংস্থা একসাথে কাজ করা জরুরি।



