ইস্তাম্বুলে বৃহস্পতিবার হাকান ফিদান সাংবাদিকদের সামনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বেন্জামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থার বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কারণে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
“মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কারণে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে,” ফিদান বলেন। এই মন্তব্য ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রমের ফলে উদ্ভূত আন্তর্জাতিক চাপকে নির্দেশ করে।
ফিদান আরও যোগ করেন, “গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার কারণেই বিশ্বনেতারা তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনছেন এবং ভোটারদের মনোভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক নীতির প্রয়োগ কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার প্রসঙ্গে ফিদান প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেতানিয়াহু আর কোথায় যেতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমেরিকা ছাড়া তিনি আর কোথাও যেতে পারেন না। হয়তো গ্রিসে যেতে পারেন।” এই মন্তব্য ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া সমর্থনকে তুলে ধরে।
তুরস্কের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিদান বলেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা নিছক মতাদর্শগত বিষয় নয়। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত বিবেকের প্রতিফলন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্কের পদক্ষেপ একক নয়, বরং বৈশ্বিক নৈতিকতার প্রকাশ।
ফিদান জানান, “অনেক দেশ প্রকাশ্যে ইসরায়েলের বিরোধিতা করছে, আবার অনেকে নীরবে দূরত্ব বজায় রেখে উচ্চপর্যায়ের সফর ও প্রতীকী সৌজন্য বন্ধ করে দিয়েছে।” এই বিবৃতি বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক আচরণকে দুই ভাগে ভাগ করে দেখায়: প্রকাশ্য বিরোধ এবং নীরব বিচ্ছিন্নতা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যতদিন এই পরিস্থিতি চলবে, ততদিন শুধু তুরস্ক নয়, বিশ্বের অনেক দেশের পক্ষেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।” এই মন্তব্য ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
ফিদানের বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয়, ইসরায়েলের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান কেবল তুরস্কের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; গাজার সংঘাতের ফলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোও সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করছে।
বিশ্ব নেতারা ভোটারদের চাহিদা ও মানবিক নীতির ভিত্তিতে নীতি পরিবর্তন করছেন, ফলে ইসরায়েলের জন্য নতুন কূটনৈতিক পথ খোঁজা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একক সমর্থন ছাড়া অন্য কোনো বড় শক্তি থেকে সমান সমর্থন পাওয়া কঠিন বলে ফিদান উল্লেখ করেন।
এদিকে, তুরস্কের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত বিবেকের প্রতিফলন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তুরস্কের এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশকে নীরবভাবে দূরত্ব বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, যা ইসরায়েলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
ভবিষ্যতে ইসরায়েল যদি কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে চায়, তবে তা মানবিক দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, তুরস্কের মতো দেশগুলোই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বহু দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন হবে।
সারসংক্ষেপে, হাকান ফিদান ইস্তাম্বুলে যে বক্তব্য রাখেন, তা ইসরায়েলের কূটনৈতিক ভবিষ্যৎকে কঠিন পথে নিয়ে যাবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একক সমর্থনই একমাত্র সম্ভাব্য আশ্রয়, আর তুরস্কের মত দেশগুলো আন্তর্জাতিক নৈতিকতার ভিত্তিতে বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখবে।



