22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাঝিনাইদহের শৈলকুপা মাদ্রাসায় রাতের নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে স্থানীয় প্রতিবাদ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা মাদ্রাসায় রাতের নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে স্থানীয় প্রতিবাদ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় পুটিমারি আউলিয়া মাদ্রাসায় ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে আটটায় নাইটগার্ড নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মাদ্রাসার সুপার, পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া এক নারীকে স্থানীয় মানুষ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আটকে রাখে এবং পরীক্ষার কার্যক্রমে বাধা দেয়।

সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটায় প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করা শুরু হয়। তবে পরীক্ষার সময়সূচি গোপনে এবং রাতের অন্ধকারে নির্ধারিত হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা সন্দেহ প্রকাশ করে এবং মাদ্রাসার দরজা বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি ছিল, নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে না নিয়ে গোপনে চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয়। মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রচলিত বিধি অনুসারে করা হয় এবং মোট বারোজন প্রার্থীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। তবে উপস্থিত তালিকায় মাত্র দশজনের স্বাক্ষর পাওয়া যায় এবং পরীক্ষার ঘরে কেবল তিনজন প্রার্থী উপস্থিত থাকে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সন্ধ্যার দিকে সাদা রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি মাদ্রাসার সামনে থামে। গাড়িতে থাকা নারী নিজেকে ডিজি (ডিজিটাল জোন ইনফরমেশন) প্রতিনিধিরূপে পরিচয় দিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। তার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহকে বাড়িয়ে দেয়।

ডিজি প্রতিনিধির দেরিতে পৌঁছানোর কারণে পরীক্ষার সূচনা বিলম্বিত হয়। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত হওয়ার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিয়ে পরীক্ষাকে স্থগিত করে। এই সময়ে মাদ্রাসার সুপার উল্লেখ করেন, দেরি হওয়ায় পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শৈলকুপা উপজেলায় ফুলহরি ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন জানান, মূলত দিনের সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও রাতে নাইটগার্ডের জন্য বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এই অপ্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পর স্থানীয় মানুষ মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে পরীক্ষার বন্ধের দাবি করে।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুইজনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদ্রাসার সুপার ও ডিজি প্রতিনিধির পরিচয় স্পষ্ট করা হয়নি, যা তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। মাদ্রাসা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিভাগের কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান এবং সময়সূচি প্রকাশের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ এড়াতে হবে।

শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো নিয়োগে যদি রাতের সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তবে আবেদনকারীদের জন্য পূর্বে যথাযথ বিজ্ঞপ্তি ও সময়সূচি প্রকাশ করা অপরিহার্য। এছাড়া, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্বচ্ছতা বজায় রাখলে অনধিকৃত বিরোধ কমে যায়।

আপনার মতামত কী? আপনার এলাকার কোনো শিক্ষা সংক্রান্ত নিয়োগে অনিয়মের শঙ্কা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য আবেদন করুন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments