28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডের সদস্যদের তালিকা প্রকাশিত

ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডের সদস্যদের তালিকা প্রকাশিত

হোয়াইট হাউস গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন ও সাময়িক শাসনকে তত্ত্বাবধান করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন “শান্তি বোর্ড”-এর সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রেসিডেন্ট নিজেই আছেন এবং গাজা‑এর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি প্যালেস্টাইনি প্রযুক্তিবিদদের কমিটি গঠন করা হবে।

এই কমিটি গাজা‑এর অস্থায়ী শাসন ও ধ্বংসাবশেষ পুনর্নির্মাণের দায়িত্বে থাকবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে বোর্ডের প্রতিটি সদস্যকে গাজা‑এর স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো পোর্টফোলিও অর্পণ করা হবে, তবে এখনো কোন সদস্য কোন দায়িত্বে থাকবে তা প্রকাশিত হয়নি।

বোর্ডের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার অন্তর্ভুক্ত। তিনি সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশের পর এখনো এই তালিকায় নাম যুক্ত হয়েছে। ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি কিছু বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে বিতর্কের বিষয়। ২০০৭ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত কোয়ার্টেটের মধ্যপ্রাচ্য দূত হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একমাত্র অ-আমেরিকান নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এবং ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনাকে যুদ্ধ ও কষ্টের শেষের সর্বোত্তম সুযোগ বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিওও এই বোর্ডের সদস্য। ট্রাম্পের পুনরায় শাসনে ফিরে আসার আগে রুবিও গাজা‑এর স্থগিত যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করে ইসরায়েলকে হামাসের সব উপাদান ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে অক্টোবর মাসে ইসরায়েল‑হামাসের প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি তা “সর্বোত্তম” এবং “একমাত্র” সমাধান হিসেবে প্রশংসা করেন। একই সময়ে তিনি ইসরায়েলি সংসদের পশ্চিম তীরের সংযুক্তিকরণ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে মন্তব্য করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি রিয়েল এস্টেট খাতে বিশাল ব্যবসায়ী এবং ট্রাম্পের গলফ পার্টনার হিসেবে পরিচিত। তার অন্তর্ভুক্তি বোর্ডে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব বাড়িয়ে তুলেছে।

ব্র্যান্ডেড রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড গাজা‑এর পুনর্গঠন ও শাসনকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্য রাখে। তবে এখনো কোন সদস্য কোন নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্বে থাকবে তা স্পষ্ট করা হয়নি, যা ভবিষ্যতে বোর্ডের কার্যক্রমের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ব্লেয়ারের অংশগ্রহণকে কিছু বিশ্লেষক ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি ও তার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কারণে বিতর্কের বিষয় হিসেবে দেখছেন। রুবিওর পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সাম্প্রতিক প্রশংসা পর্যন্ত পরিবর্তনও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ব্যবসায়িক পটভূমি সম্পন্ন উইটকফের অন্তর্ভুক্তি গাজা‑এর পুনর্গঠন প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, তবে তা নিয়ে প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।

এই বোর্ডের গঠন যুক্তরাষ্ট্রের গাজা‑সংক্রান্ত নীতি ও সহায়তা প্যাকেজের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বোর্ডের প্রথম সভা, পোর্টফোলিও বণ্টন এবং প্যালেস্টাইনি প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে সমন্বয় প্রক্রিয়া গাজা‑এর পুনর্গঠন পরিকল্পনার বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখবে।

গাজা‑এর স্থিতিশীলতা ও পুনর্নির্মাণের জন্য এই নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা ও প্রভাব সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে, তাই পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments