ভেনেজুয়েলার interim প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ শুক্রবার টেলিগ্রাম মাধ্যমে জানিয়ে দেন যে শিল্প মন্ত্রী পদ থেকে অ্যালেক্স স্যাবকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একত্রিত করা হবে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে, যা জানুয়ারি ৩ তারিখে অনুষ্ঠিত সামরিক অভিযান থেকে উদ্ভূত।
রড্রিগেজের বার্তায় স্যাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে তিনি দেশের সেবা করেছেন এবং এখন নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠন ও একত্রিকরণ দেশের শিল্প ও বাণিজ্য নীতি সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যালেক্স স্যাব, কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ভেনেজুয়েলীয় ব্যবসায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে নিকোলাস মাদুরো তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তাকে শিল্প মন্ত্রী পদে নিয়োগ দেন। তার ব্যবসায়িক পটভূমি ও মাদুরোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জানুয়ারি ৩ তারিখের সামরিক অভিযান মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার করার পর ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও চাপ দেশীয় শাসন কাঠামোকে পুনর্গঠনের দিকে ধাবিত করেছে।
রড্রিগেজের নেতৃত্বে সরকার এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদবী পরিবর্তন করেছে, যার মধ্যে স্যাবের পদত্যাগও অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবর্তনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিপক্ষের নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলা এখন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রথম ধাপে রয়েছে এবং এই রূপান্তর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সম্পন্ন হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাচাদোর দল দাবি করে যে ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরো জালিয়াতি করেছেন এবং এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ওয়াশিংটন সরকার দ্বারা স্বীকৃত। তারা এই ভিত্তিতে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করে আসছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাচাদোর জনপ্রিয়তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং রড্রিগেজকে interim নেতা হিসেবে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। ট্রাম্পের শর্ত হল রড্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের তেল সম্পদে প্রবেশের বিষয়ে সহযোগিতা করবে, যা ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এই রাজনৈতিক পুনর্গঠন ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি, আন্তর্জাতিক আর্থিক সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। রড্রিগেজের মন্ত্রণালয় একত্রিকরণ ও স্যাবের পদত্যাগকে তেল নীতি পুনর্গঠনের একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল চাহিদা ও রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণ করবে। রড্রিগেজের নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপগুলো যদি সফল হয়, তবে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।



