মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ জানুয়ারি তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ইরানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান যে তারা প্রতিবাদকারীদের জন্য নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরী পরিকল্পনা রদ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শত শত গ্রেফতারকৃত প্রতিবাদকারীর ফাঁসি রদ হয়েছে, যা গতকাল সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
প্রতিবাদগুলো ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ইরানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের ফলে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহগুলোতে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮০০টি মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ট্রাম্পের পোস্টে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি “অত্যন্ত সম্মান” প্রকাশ করে বলেন, “যারা সব নির্ধারিত ফাঁসিকে বাতিল করেছেন, যা গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ধন্যবাদ!” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কোনো উপসাগরীয় দেশ বা ইসরায়েল তাকে হামলা থেকে রক্ষা করেনি, এবং কেউ তাকে কোনো ব্যাখ্যা দেননি; তিনি নিজেই বিষয়টি বুঝে গেছেন।
প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, “কেউ ফাঁসি করেনি। ফাঁসি বাতিল হয়েছে। এটি আমার উপর বড় প্রভাব ফেলেছে।” তার কথায় স্পষ্ট যে ইরানের এই পদক্ষেপ তার নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
হোয়াইট হাউসের পূর্ববর্তী বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ইরানি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তটি বহু সপ্তাহের প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে। ট্রাম্পের ধারাবাহিক মন্তব্যে তিনি ইরানের প্রতিবাদকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের ফলে হাজারো প্রাণহানি ঘটার কথা উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানি প্রতিবাদকারীদের আরও সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করতে আহ্বান জানান। তিনি যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ইতিমধ্যে পৌঁছাচ্ছে এবং প্রতিবাদকারীরা তাদের দাবিতে দৃঢ় থাকতে পারবে।
তাছাড়া, ট্রাম্প সতর্ক করে জানান যে যদি ফাঁসির কার্যকরী ব্যবস্থা পুনরায় শুরু হয়, তবে তেহরানকে “খুব কঠোর পদক্ষেপের” মুখোমুখি হতে হবে। এই সতর্কতা ইরানের নিরাপত্তা নীতির উপর চাপ বাড়াতে পারে।
ইরানি সরকারী মুখপাত্রের মতে, এই প্রতিবাদগুলোকে “দাঙ্গা” ও “সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এই আন্দোলনকে বিদেশি হস্তক্ষেপের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রতিবাদগুলো ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে, তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও মৃত ও আহতের সঠিক সংখ্যা বা গ্রেফতারকৃতদের মোট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। এই তথ্যের ঘাটতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ধন্যবাদ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একদিকে, ইরানের নেতৃত্বের এই মানবিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে; অন্যদিকে, ইরানের সরকারী বর্ণনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রতিবাদকারীদের জন্য রাজনৈতিক প্রেরণা জোগাতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের মন্তব্য ইরানের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কিভাবে বিকশিত হবে তা উভয় দেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর নির্ভরশীল।



