27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবেলুচিস্তানের খারান শহরে সন্ত্রাসী হামলা, নিরাপত্তা বাহিনী ১২ জন গুলিবিদ্ধ

বেলুচিস্তানের খারান শহরে সন্ত্রাসী হামলা, নিরাপত্তা বাহিনী ১২ জন গুলিবিদ্ধ

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের উত্তর‑পশ্চিমাঞ্চলীয় খারান শহরে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) একাধিক সরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় সন্ত্রাসী আক্রমণ করা হয়। দেশের নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, ফলে হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত বারোজন নিহত হয়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা বাহিনীর ক্লিন‑আপ অভিযান চালু হয় এবং এলাকার নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য মপ‑আপ অপারেশন চালু রাখা হয়েছে।

ইন্টার‑সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, ভারত‑পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ‘ফিতনা আল‑হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী একসাথে খারান শহরে হামলা চালায়। গোষ্ঠীটি বেলুচিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত এবং ভারতকে হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবে বেলুচিস্তানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে জানান, সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা আদর্শিক তৎপরতার পাশাপাশি ব্যাংক ডাকাতির মতো সংগঠিত অপরাধে ঝুঁকছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা যদি রাস্তায় নামবে তবে তারা পরাজিত হবে, আর লুকিয়ে থাকলে গোয়েন্দা ভিত্তিক অভিযানে ধরা পড়বে।

মুখ্যমন্ত্রী বুগতি একই সঙ্গে বেলুচিস্তানের দূরবর্তী অঞ্চলে ডিজিটাল অবকাঠামোর ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ৩০০ কোটি রুপির একটি প্রাদেশিক প্রকল্পের ঘোষণা দেন, যার আওতায় পুরো বেলুচিস্তানে ফাইবার‑অপটিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হবে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করা হবে এবং নেটওয়ার্কের অপব্যবহার রোধে নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, খারান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্লিন‑আপ ও মপ‑আপ অভিযান চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, আক্রমণকারী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র ও সজ্জিত ছিল, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলে তারা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ঘটনার পরবর্তী তদন্তে সংশ্লিষ্ট সকল দিক বিশ্লেষণ করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ রোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বেলুচিস্তানের এই ঘটনার পর, দেশের বিভিন্ন স্তরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকরী প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে, খারান শহরের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা রোধে গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments