22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে কার্যকর

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে কার্যকর

বাংলাদেশের সরকার জানুয়ারি মাস থেকে নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে। সংশোধিত বাজেটে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে ১৫ লক্ষেরও বেশি সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তার বেতন ও ভাতা নিশ্চিত করা যায়। এই পদক্ষেপটি জাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টের পর্যালোচনার পর, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বেতন কাঠামোর নতুন সংস্করণে নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন বৃদ্ধি থাকবে। সংশোধিত বাজেটের মোট আকার ৭৮৮,০০০ কোটি টাকা, যা পূর্বের বাজেটের তুলনায় ২,০০০ কোটি টাকা কম। তবে উন্নয়ন বাজেট ৩০,০০০ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে, অ-উন্নয়ন বাজেট ২৮,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নকে সমর্থন করা।

বছরের মূল বাজেটে বেতন ও ভাতার জন্য ৮৪,১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল; সংশোধিত বাজেটে এই পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি হয়ে ১,০০,০০০ কোটি টাকার উপরে পৌঁছাবে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ, এবং নতুন বেতন কাঠামো এই সকলকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

নতুন বেতন কাঠামো শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নয়, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যদিও তাদের বেতন সরাসরি সরকারি বাজেট থেকে প্রদান করা হয় না। জাতীয় বেতন কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জন্য আলাদা বেতন স্কেল প্রস্তাব করতে পারে, যাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়।

বেতন কাঠামোর সংশোধন ও বাজেটের পুনর্বিবেচনা সম্পর্কে উচ্চপদস্থ আর্থিক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্ট জানুয়ারি ২১ তারিখের মধ্যে পাবলিক হবে। রিপোর্টের বিশদ পর্যালোচনার পর, সরকার জানুয়ারি থেকে বেসিক বেতন অথবা ভাতা দুটির যেকোনো একটি অংশ কার্যকর করতে পারে, ফলে বাজেটের অতিরিক্ত বরাদ্দ যথেষ্ট হবে।

এই আর্থিক পদক্ষেপটি সরকারকে নির্বাচনের আগে জনমতকে স্থিতিশীল করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেতন বৃদ্ধি বিশেষত নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা এনে দেবে, যা কর্মসংস্থানের সন্তুষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, উন্নয়ন বাজেটের বড় কাটছাঁটের ফলে অবকাঠামো ও সামাজিক প্রকল্পে কিছু বিলম্বের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তবে সরকার দাবি করে যে অ-উন্নয়ন খাতে বৃদ্ধি করা তহবিলের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনসেবা উন্নয়নে অবদান রাখবে।

নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট বাজেটের ১২.৫% অংশ এখন বেতন ও ভাতার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অনুপাত পূর্বের বাজেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়াবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বেতন কাঠামোর এই পরিবর্তন সরকারকে নির্বাচনের সময় ভোটারদের কাছে আর্থিক দায়িত্বশীলতা ও কর্মচারী কল্যাণের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের সুযোগ দেবে। তবে একই সঙ্গে, উন্নয়ন বাজেটের হ্রাসের ফলে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের কাছ থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশেষত অবকাঠামো প্রকল্পের দেরি নিয়ে।

সারসংক্ষেপে, সরকার জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যার জন্য সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি জাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টের পর, নির্বাচনের আগে ঘোষিত হবে এবং ১৫ লক্ষেরও বেশি সরকারি কর্মচারীর বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি করবে, পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments