ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পশ্চিম তীরের এৎজিওন ব্রিগেড অঞ্চলে একটি ইয়ানশুফ (ব্ল্যাক হক) সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। হেলিকপ্টারটি খারাপ আবহাওয়ার কারণে পূর্বে খোলা স্থানে অবতরণ করেছিল এবং কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি।
বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি দক্ষিণ-পশ্চিম তীরের এৎজিওন ব্রিগেডের সীমার কাছাকাছি অবস্থিত একটি মাঠে নেমে গিয়েছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হাওয়া প্রবল হওয়ায় পাইলট জরুরি অবতরণ করে, তবে হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যায়।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর প্রধান টোমার বার ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি সামরিক কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের উদ্দেশ্য হল প্রযুক্তিগত ত্রুটি, মানবিক ভুল বা বাহ্যিক কারণের সম্ভাবনা নির্ণয় করা।
এই ঘটনার পর ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর একটি মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, হেলিকপ্টারটি কোনো শত্রু আক্রমণের শিকার হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণভাবে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি অতিরিক্তভাবে জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সব ইউনিটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হবে।
পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তীব্রতর হয়েছে। গাজা যুদ্ধের সূচনা থেকে, ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত ১,০৮০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, প্রায় ১১,০০০ জন আহত হয়েছে এবং ২০,০০০ এর বেশি ব্যক্তি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সংখ্যা গাজা অঞ্চলের সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম তীরে ঘটিত সহিংসতার মাত্রা তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতে বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে এবং মানবিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা যদিও সরাসরি সংঘাতের ফল নয়, তবু এটি অঞ্চলের সামরিক কার্যক্রমের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তিনি যোগ করেন, এমন ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
ইসরায়েলি সরকার ইতিমধ্যে নিরাপত্তা নীতিমালার পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া পূর্বাভাসের সঠিক ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে বলছেন।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলিও এই ঘটনার প্রতি সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে। তারা ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে দাবি করে।
অবশেষে, এই দুর্ঘটনা ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও সরাসরি কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে এটি অঞ্চলের সামরিক কার্যক্রমের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারির গুরুত্বকে পুনরায় উজ্জ্বল করেছে।
ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল এবং নিরাপত্তা নীতির পরিবর্তন কীভাবে অঞ্চলকে প্রভাবিত করবে, তা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলোর নজরে থাকবে। এই ধরণের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



