সুইস ফোরেন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বার্নে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কঠোর দমন নিয়ে “গভীর উদ্বেগ” জানায়। মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগ প্রধান উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা অপ্রত্যাশিত এবং আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সুইস সরকার যে কোনো রূপের মৃত্যুদণ্ডের কঠোর বিরোধিতা করে।
গত সপ্তাহে ইরানে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়, যা দ্রুতই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দমনে পরিণত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফলে ইন্টারনেট প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল, যা তথ্যের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। সম্প্রতি সংযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় প্রতিবাদ কিছুটা শিথিল হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে।
নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকর্মে অন্তত ৩,৪২৮ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। সংস্থা এই সংখ্যা সরকারী সূত্রের চেয়ে বেশি বলে দাবি করে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ইরানি সরকার প্রতিবাদকারীদেরকে “দাঙ্গাবাজ” বলে অভিহিত করে এবং তাদের ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছে বলে অভিযোগ করে। তদুপরি, নিরাপত্তা বাহিনী অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি জানিয়ে দেয়, যা মানবাধিকার সংস্থার মতে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে তিনি সেই হুমকি প্রত্যাহার করার ইঙ্গিত দেন। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের নীতি নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে।
সুইস ফোরেন মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে এবং অন্যান্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। মন্ত্রণালয় এফপিকে একটি ইমেইলে জানায়, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলি লারিজানি বুধবার সুইস সিনিয়র কূটনীতিক গ্যাব্রিয়েল লিউচিঙ্গারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
সুইস সরকার জোর দিয়ে বলেছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক। এই প্রস্তাবের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, মানবাধিকার রক্ষার জন্য পর্যবেক্ষণ মিশন এবং ইরানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা ইরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সুইসের স্পষ্ট অবস্থান এবং মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়লে ইরানের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে ইরানের সরকার এখনও তীব্র প্রতিক্রিয়া বজায় রেখেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সুইসের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন দুটোই ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা, মানবাধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হবে।



