শীতের এক ঠাণ্ডা রাত্রে, দিল্লি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে, কয়েক ডজন মানুষ টেলিস্কোপের চারপাশে জড়ো হয়ে আকাশের অন্ধকারে অপেক্ষা করছিল। একই সময়ে, কয়েক ঘন্টার মধ্যে ১৫০টিরও বেশি উল্কা আকাশে ছুটে গেল, যা শহরের আলো দূষণের কারণে দিল্লির মতো বড় শহরে দেখা কঠিন।
এই ধরনের আকাশীয় দৃশ্য এখন পর্যটকদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ বা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মতোই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পূর্বে শুধুমাত্র শৌখিন জ্যোতির্বিদ ও বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যদেরই এই অভিজ্ঞতা মিলত, তবে শহরের আলো ও বায়ু দূষণ রাতের আকাশকে ধূসর করে তুলেছে, ফলে অস্ট্রোট্যুরিজম ধীরে ধীরে মূলধারায় প্রবেশ করেছে।
তবু এই প্রবণতা এখনও সীমিত, কারণ সংগঠিত সফরের খরচ বেশি এবং দূরবর্তী, আলোমুক্ত স্থানগুলোতে পৌঁছানো কঠিন। তবু শহরের বাসিন্দারা এখন শত কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নক্ষত্রমণ্ডল দেখার জন্য প্রস্তুত, ফলে ট্যুর অপারেটরদের দাবি বাড়ছে।
লাদাখের হানলে গ্রাম, যা উচ্চ উচ্চতার শীতল মরুভূমি, আগে বছরে প্রায় ৫,০০০ পর্যটকই আকর্ষণ করত। ২০২২ সালে দেশের প্রথম ডার্ক-স্কাই রিজার্ভ হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর, গত বছর সেখানে ৩০,০০০েরও বেশি দর্শনার্থী পৌঁছায়। এই বৃদ্ধি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।
অনুরূপ প্রবৃদ্ধি দেশের অন্যান্য অংশেও দেখা যাচ্ছে। একটি বেসরকারি সংস্থা, যা পাঁচটি রিসোর্টে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মশালা প্রদান করে, তার বার্ষিক দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক শত থেকে প্রায় ২০,০০০-এ পৌঁছেছে। এই সংখ্যা কয়েক বছর আগে তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দৃশ্যমানতার উন্নতি অস্ট্রোট্যুরিজমের প্রধান চালক। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আকাশের স্বচ্ছতা মাপতে বোর্টল স্কেল ব্যবহার করেন, যা এক থেকে নয় পর্যন্ত থাকে। দিল্লি সাধারণত আট থেকে নয় নম্বরের মধ্যে র্যাঙ্ক করে, যার মানে শুধুমাত্র সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রই দেখা যায়।
বায়ু দূষণের সূচক PM2.5 যখন ১০০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি কিউবিক মিটারের বেশি হয়, তখন আকাশের স্বচ্ছতা দ্রুত হ্রাস পায় এবং বেশিরভাগ নক্ষত্রমণ্ডল ও গভীর মহাকাশের বস্তু অদৃশ্য হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি শহরের বাসিন্দাদের জন্য অন্ধকার আকাশের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়।
অস্ট্রোট্যুরিজমের উত্থান এখন পর্যটনের নতুন দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে মানুষ শহরের কোলাহল থেকে দূরে সরে শান্তি ও বিজ্ঞান উপভোগ করতে চায়। এই প্রবণতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের নতুন দায়িত্ব নিয়ে আসে।
তবে দূরবর্তী স্থানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা, রাস্তায় পৌঁছানোর সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ টেলিস্কোপ সরঞ্জাম সরবরাহ করা এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ও আরামদায়কভাবে নক্ষত্র দেখার সুযোগ পায়।
অবশেষে, অন্ধকার আকাশকে সংরক্ষণ করা কেবল পর্যটনের জন্য নয়, বরং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শহরের আলো ও বায়ু দূষণ কমাতে নীতি গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে অস্ট্রোট্যুরিজমের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। আপনি কি আপনার পরবর্তী ছুটি এমন কোনো স্থানে কাটাতে চান, যেখানে রাতের আকাশ পরিষ্কার এবং নক্ষত্রের সান্নিধ্য অনুভব করা যায়?



