ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি থেকে এক বছরের জন্য ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার সর্বোচ্চ ১০% রাখার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা ঋণভারে ভুগছেন এমন লক্ষ লক্ষ আমেরিকানকে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিতে লক্ষ্য।
ক্রেডিট কার্ডের ঋণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বাড়ছে; দক্ষিণ ক্যারোলিনার কলম্বিয়ায় বসবাসকারী ২৬ বছর বয়সী সেলেনা কুপার এদের মধ্যে এক। তিনি সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনে পারালিগাল হিসেবে কাজ করতেন, তবে সরকার বন্ধের পর চাকরি হারিয়ে স্থায়ী আয় থেকে বঞ্চিত হন।
কুপার অক্টোবর মাসে প্রথমবার তার ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি মিস করেন, যখন তার বেতন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনটি কার্ডে মোট ঋণ প্রায় ছয় হাজার ডলারে পৌঁছায়।
তার ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী ক্যাপিটাল ওয়ান ও আমেরিকান এক্সপ্রেস দেরি পেমেন্টের কারণে সুদের হার বাড়িয়ে দেয়; ক্যাপিটাল ওয়ানের হার দ্বিগুণ হয়ে ১৬% হয়, আর আমেরিকান এক্সপ্রেসের হার ১০% থেকে ১৮% এ উঠে।
কুপার এখন ফটোগ্রাফি ব্যবসা থেকে আয় নিয়ে ছোটখাটো বিল পরিশোধে সক্ষম, তবে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ মেটাতে তা যথেষ্ট নয়।
জাতীয় স্তরে ক্রেডিট কার্ডের গড় সুদের হার নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২% পৌঁছেছে, যা দশ বছর আগে ১৩% ছিল; প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৭% এখনও ব্যালেন্স বহন করে এবং মোট ঋণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
শিকাগোর এক পোর্টফোলিও ম্যানেজার উল্লেখ করেন, ভোক্তারা আর্থিক চাপ অনুভব করছেন এবং এই চাপ অব্যাহত থাকবে, তাই প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি একটি প্রাথমিক সমাধান হতে পারে।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাব তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ, তবে ব্যাংকিং খাতের নেতারা তীব্র বিরোধ প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, সুদের সীমা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট প্রদান ক্ষমতা হ্রাস করবে।
ব্যাংকগুলো সম্ভাব্যভাবে ক্রেডিট সীমা কমাতে পারে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য নতুন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
সুদের আয় ব্যাংক ও বড় ঋণদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয় উৎস, যা প্রায় ১৬০ বিলিয়ন ডলার গঠন করে।
কুপারের মত গ্রাহকদের জন্য এই সীমা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, তবে তাদের ঋণ সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পেতে তা যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই প্রস্তাবটি নীতি আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে এবং ট্রাম্পের ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে, বিশেষত যারা জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চাপ অনুভব করছেন।
প্রস্তাবটি এখন ট্রেজারি ও কংগ্রেসের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে; অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত, তবে পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে তা স্পষ্ট হবে।



