28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যফাইবারের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও দৈনিক গ্রহণের বাস্তবতা

ফাইবারের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও দৈনিক গ্রহণের বাস্তবতা

গত কয়েক মাসে ফাইবারের গুরুত্ব সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে, যদিও যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র চার শতাংশই স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ৩০ গ্রাম দৈনিক পরিমাণে পৌঁছাতে সক্ষম।

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের সুপারিশ করে, তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখায় গড়ে মানুষ মাত্র ১৬.৪ গ্রামই গ্রহণ করে এবং নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবারের প্রতি এই নতুন আগ্রহ কোনো ক্ষতিকারক প্রবণতা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা বদলাতে সহায়তা করছে। ঐতিহ্যগতভাবে ফাইবারকে ‘অসেক্সি পুষ্টি’ হিসেবে গণ্য করা হতো, কারণ এর সঙ্গে পেটের গ্যাস ও বদহজমের সম্পর্ক যুক্ত ছিল, যেখানে প্রোটিনকে শারীরিক প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হতো।

ডায়েটিশিয়ান কেট হিলটন উল্লেখ করেন, ফাইবারের প্রতি এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারণার ফল, যা এখন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সময়ে পুষ্টিবিদ ক্রিস্টেন স্টাভ্রিডিস জানান, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ছে এবং তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদামি চাল, আলু, শাকসবজি ও ফলের নিয়মিত সেবন কেবল পেটের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে না, বরং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কিংস কলেজ লন্ডনের ডায়েটেটিক্সের অধ্যাপক কেভিন হেলান উল্লেখ করেন, উচ্চ ফাইবার গ্রহণকারী ব্যক্তিদের দীর্ঘায়ু, হৃদরোগের কম ঝুঁকি, ক্যান্সারের হ্রাস এবং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অতিরিক্তভাবে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ফাইবার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে।

বির্মিংহামের ২৪ বছর বয়সী ইয়েশে স্যান্ডার তার ফাইবার গ্রহণ বাড়িয়ে দৈনিক ৩০ গ্রাম লক্ষ্য অর্জনের পর শারীরিক ও মানসিকভাবে উল্লেখযোগ্য উন্নতি অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, এই পরিবর্তন তার সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ইয়েশের শৈশবকালেই তার পরিবার তাকে পাঁচ ভাগ ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দিত, তবে কিশোর বয়সে তিনি চকলেট, ডোনাট ও কুকিজের দিকে ঝুঁকেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দূরে থাকেন।

কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তার প্রিয় দ্রুত খাবার ছিল ইনস্ট্যান্ট নুডলস, সাদা টোস্ট এবং ফ্রোজেন পিজা, যা তার ফাইবার গ্রহণকে আরও কমিয়ে দেয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন যে ফাইবারের গুরুত্ব অবহেলিত নয় এবং ধীরে ধীরে তার খাবার তালিকায় বাদামি চাল, পুরো গমের রুটি এবং বিভিন্ন শাকসবজি যুক্ত করেন। এই পরিবর্তনের ফলে তিনি শারীরিক শক্তি ও মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেতে দেখেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেন, দৈনিক ৩০ গ্রাম ফাইবার অর্জনের জন্য খাবারের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে তাজা শাকসবজি, ফল, পুরো শস্য এবং ডালজাতীয় খাবারকে প্রধানত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

আপনার বর্তমান খাবার তালিকায় ফাইবারের পরিমাণ কত? আজই ছোট পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments