সিয়েনা রোজের নাম সাম্প্রতিক সপ্তাহে সঙ্গীত প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। স্পটিফাইয়ের ভাইরাল টপ ৫০ তালিকায় তার তিনটি গানের স্থান রয়েছে, যার মধ্যে স্বপ্নময় ব্যালাড “ইন্টু দ্য ব্লু” পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি স্ট্রিম পেয়েছে। এই সাফল্যকে দেখে শিল্প জগতে তাকে বছরের অন্যতম উজ্জ্বল নতুন তারকা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। স্ট্রিমিং সেবা ডিজার জানিয়েছে যে রোজের বেশিরভাগ অ্যালবাম ও গান কম্পিউটার-উৎপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ধরনের সনাক্তকরণ ডি-ইউ-আই-এ-র মতো এআই মিউজিক টুল ব্যবহার করে তৈরি ট্র্যাকের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থেকে করা হয়।
রোজের অনলাইন উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে সীমিত। তার কোনো সক্রিয় সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই, কোনো লাইভ পারফরম্যান্সের রেকর্ড নেই, ভিডিও ক্লিপের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, এবং পূর্বে প্রকাশিত ছবিগুলোতে একরকম স্বচ্ছ আলো ও অতিরিক্ত মসৃণ পটভূমি দেখা যায়, যা এআই ইমেজ জেনারেটরের স্বতন্ত্র চিত্রশৈলীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গানের পরিমাণও অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে রোজ কমপক্ষে ৪৫টি ট্র্যাক বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেছে। এ পরিমাণের কাজ কোনো মানব শিল্পীর জন্যই অতি দ্রুত, এমনকি সর্বদা সৃষ্টিশীলভাবে কাজ করা প্রিন্সের মতো শিল্পীর জন্যও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
সঙ্গীতের শৈলী জ্যাজ-প্রভাবিত সোলের সঙ্গে মেলোডিক গিটার এবং মসৃণ কণ্ঠের সমন্বয়, যা নোরা জোন্স ও অ্যালিসিয়া কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে শোনার সময় কিছু শ্রোতা অস্বাভাবিক হিসের কথা উল্লেখ করেছে। এই হিসটি ট্র্যাকের পুরো সময়ে সূক্ষ্মভাবে শোনা যায় এবং এআই-উৎপন্ন সঙ্গীতের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
এ ধরনের হিসের উৎপত্তি মূলত সাউন্ড জেনারেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সানো ও ইউডিওয়ের মতো এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলো প্রথমে সাদা শব্দ (হোয়াইট নোয়েজ) ব্যবহার করে সুরের কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তারপর ধীরে ধীরে তা সঙ্গীতের রূপে রূপান্তরিত করে। এই প্রক্রিয়ায় সূক্ষ্ম ত্রুটি রয়ে যায়, যা মানব কানের জন্য স্পষ্ট না হলেও গাণিতিক বিশ্লেষণে সহজে ধরা পড়ে।
ডিজারের সিনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট গ্যাব্রিয়েল মেসেগুয়ের-ব্রোকাল উল্লেখ করেন যে, সফটওয়্যার যখন একাধিক লেয়ার ও যন্ত্র যুক্ত করে, তখন অদৃশ্য ত্রুটি সৃষ্টি হয়। এই ত্রুটি শোনার সময় সরাসরি ধরা না পড়লেও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সনাক্ত করা সম্ভব, যা এআই-সৃষ্ট গানের চিহ্ন হিসেবে কাজ করে।
সিয়েনা রোজের দ্রুত জনপ্রিয়তা ও এআই সঙ্গীতের সম্ভাব্যতা নিয়ে শিল্প জগতে আলোচনা বাড়ছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো এখন এআই-উৎপন্ন ট্র্যাক চিহ্নিত করার জন্য উন্নত টুল ব্যবহার করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা প্রকৃত শিল্পীর কাজ এবং অ্যালগরিদমের ফলাফল আলাদা করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে শ्रोतারা দু’ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। কেউ কেউ রোজের সুরের গুণমান ও মেলোডিক আকর্ষণকে প্রশংসা করেন, আবার অন্যরা তার অপ্রাকৃত উৎপত্তি নিয়ে সতর্ক হন। ভবিষ্যতে এআই-সৃষ্ট সঙ্গীতের বাজারে কী ভূমিকা থাকবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
যদি রোজের ট্র্যাকগুলো ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে থাকে, তবে এআই-শিল্পীর উপস্থিতি সঙ্গীত শিল্পের কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে। একই সঙ্গে, শ्रोतাদের জন্য স্বচ্ছতা ও সঠিক তথ্য প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা কোন সৃষ্টিকর্তার কাজ শুনছেন তা জানার সুযোগ পায়।
সামগ্রিকভাবে, সিয়েনা রোজের উদাহরণ দেখায় যে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতা একত্রে নতুন ধরণের শিল্পী তৈরি করতে পারে, তবে তা নিয়ে নৈতিক ও শিল্পগত প্রশ্নও উত্থাপিত হয়। শিল্প জগতের বিভিন্ন অংশীদারদের জন্য এই বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বিত আলোচনা প্রয়োজন, যাতে সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ সবার জন্য সমানভাবে উপভোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত হয়।



