ওটোজা এবিটের স্বাধীন রোমান্টিক নাটক ‘ভারোনিকা ও জুলিয়ান’ এর প্রধান শুটিং শেষ হয়েছে। নিউ ইয়র্কের আধুনিক পটভূমিতে গড়ে ওঠা এই গল্পে দুইজন প্রধান চরিত্রের প্রেমের উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে গতি পায়। চলচ্চিত্রটি রোমান্স ও আত্ম-অন্বেষণের মিশ্রণ, যা শহরের ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত স্বপ্নের মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।
ওটোজা এবিট, যিনি ‘এ নিউ ইয়র্ক ক্রিসমাস ওয়েডিং’ দিয়ে নেটফ্লিক্সে প্রথম বড় স্ক্রিনে নাম তুলেছিলেন, এবার তার দ্বিতীয় দীর্ঘদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক হিসেবে একসাথে কাজ করছেন। তার পূর্বের কাজগুলোর মধ্যে ‘জিটার্স’ শিরোনামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পেয়েছে। এবিটের অভিনয় ক্যারিয়ারেও বেশ কিছু টেলিভিশন সিরিজে উপস্থিতি রয়েছে, যেমন ‘স্টোনওয়াল’, ‘হার্লেম নাইটস’, ‘ব্ল্যাক-ইশ’ এবং ‘বুল’।
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদিয়া ব্জোরলিন এবং কাইলার পেটিস। ব্জোরলিন নিউ ইয়র্কের এক সফল মার্কেটিং এক্সিকিউটিভের ভূমিকায় আছেন, যিনি নিজের ক্যারিয়ারকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে গেছেন। পেটিসের চরিত্র হলেন এক তরুণ, স্বপ্নময় স্থপতি, যিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে অগ্রসর। দুজনের মধ্যে বয়সের পার্থক্য সত্ত্বেও তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়ে ওঠে, যা চলচ্চিত্রের মূল থিমকে সমর্থন করে।
সহায়ক ভূমিকায় উপস্থিত আছেন ব্লেক জেনার, এরিন কামিংস, ক্রিস্টি ফ্যারিস, রবার্ট লি লেং, মার্ক ফামিগ্লিয়েটি এবং জেনাফার নিউবারি। জেনার তার পূর্বের কাজ ‘গ্লি’ এবং ‘দ্য এজ অব সেভেন্টিন’ থেকে পরিচিত, আর কামিংস ‘ন্যাঁসি ড্রু’, ‘গুড গার্লস’ এবং ‘ডাইনাস্টি’ সহ বিভিন্ন সিরিজে কাজ করেছেন। ফ্যারিস, লেং, ফামিগ্লিয়েটি এবং নিউবারি প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছেন, যা ছবির সমগ্র গুণগত মানকে সমৃদ্ধ করবে।
গল্পের মূল রূপরেখা হল, ব্জোরলিনের চরিত্রের একজন উচ্চপদস্থ মার্কেটিং এক্সিকিউটিভের আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত সাফল্য তাকে এক তরুণ স্থপতি পেটিসের প্রতি আকৃষ্ট করে। তাদের সম্পর্কের বয়সের পার্থক্য—মে-ডিসেম্বর রোম্যান্স—একটি আত্ম-অন্বেষণ ও আকাঙ্ক্ষার চিত্র তুলে ধরে, যেখানে নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় তাদের প্রেমের গল্প ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শহরের আধুনিকতা ও ব্যক্তিগত স্বপ্নের সংঘর্ষই এই নাটকের কেন্দ্রীয় থিম।
শুটিং কাজটি সম্প্রতি শেষ হয়েছে, এবং পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতি চলছে। ছবির দৃশ্যাবলি নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন পরিচিত স্থানে ধারণ করা হয়েছে, যা শহরের বাস্তবতা ও রোমান্টিক পরিবেশকে একসাথে উপস্থাপন করে। প্রধান শুটিং শেষ হওয়ার পর, টিমটি এডিটিং, সাউন্ড ডিজাইন এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দর্শকদের জন্য একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়।
প্রযোজনা কাজটি এবিটের নিজস্ব ‘উইলফুল প্রোডাকশনস’ কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে কোরি অ্যাপটন এবং ইয়ান ফিলিপ্স সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন। এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে নিক লেইচট, গ্রেগরি সিনচে, শেলি সিনচে, টর্সটেন সিপেল, টিম ফ্রেডবার্গ, রায়ান শুলকে এবং মেথিউ কনলিনের নাম উল্লেখযোগ্য। এই দলটি চলচ্চিত্রের আর্থিক ও সৃজনশীল দিক উভয়ই সমন্বয় করে, যাতে প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
ব্জোরলিনের ক্যারিয়ার ‘ডেজ অফ আওর লাইভস’ সিরিজে চ্লোয়ি চরিত্রে ১,০০০ এর বেশি পর্বে অভিনয়ের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে, যা তাকে টেলিভিশন জগতে পরিচিত করে তুলেছে। পেটিসও একই সিরিজে থিও কারভার চরিত্রে প্রায় ১৫০ পর্বে উপস্থিত ছিলেন, এবং ‘দা রুকি’, ‘অল আমেরিকান: হোমকামিং’ এবং ‘রে ডোনোভান’ সহ বিভিন্ন ধারার সিরিজে কাজ করেছেন। কামিংসের কাজের তালিকায় ‘ন্যাঁসি ড্রু’, ‘গুড গার্লস’, ‘ডাইনাস্টি’, ‘কিং রিচার্ড’, ‘ফিড দ্য বিস্ট’ এবং ‘দ্য অ্যাস্ট্রোনট উইভস ক্লাব’ অন্তর্ভুক্ত। জেনার গ্লি, ‘দ্য এজ অব সেভেন্টিন’, ‘এভরিবডি ওয়ান্টস সাম!’ এবং ‘হোয়াট/ইফ’ সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, এবং তার হাতে ‘ভ্যালি ফিভার’, ‘দ্য উইপিং’ ইত্যাদি প্রকল্পও রয়েছে।
‘ভারোনিকা ও জুলিয়ান’ এখনো মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ না করলেও, টিমটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। শহরের আধুনিক রোমান্সকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চলচ্চিত্রটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শকরা নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় প্রেমের সূক্ষ্মতা ও আত্ম-অন্বেষণের গল্প উপভোগ করতে পারবেন, যা এবিটের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ফলাফল।



