22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যশীতের রোদে স্বাস্থ্যের উপকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

শীতের রোদে স্বাস্থ্যের উপকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

শীতের কঠিন হাওয়া ও কুয়াশার পর, সূর্যের প্রথম কিরণ দেখা দিলে মানুষ বাড়ির বারান্দা, উঠোন বা অফিসের ছাদে বসে রোদ পোহাতে পছন্দ করে। এই প্রথা গ্রাম‑শহর উভয়ই দেখা যায় এবং শীতের উষ্ণতা খুঁজে পাওয়ার স্বাভাবিক উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। রোদের তাপমাত্রা গ্রীষ্মের মতো তীব্র না হলেও, শরীরের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শীতের রোদে বসে থাকা কেবল শারীরিক উষ্ণতা নয়, বরং ভিটামিন ডি উৎপাদনের প্রধান উৎস। সূর্যালোকের আল্ট্রাভায়োলেট বি (UVB) রশ্মি ত্বকে উপস্থিত কোলেস্টেরলকে ভিটামিন ডিতে রূপান্তর করে, যা হাড়ের গঠন, দাঁতের স্বাস্থ্্য এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পেলে ভিটামিন ডি ঘাটতি বৃদ্ধি পায়, যা হাড়ের দুর্বলতা এবং ইমিউন সিস্টেমের সমস্যার দিকে নিয়ে যায়।

সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে রোদের ভূমিকা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যালোক মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে, ফলে মেজাজ উন্নত হয় এবং মৌসুমী বিষণ্নতা (সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার) কমে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য শীতের রোদে কিছু সময় বসে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা সংস্কৃতিতে শীতের রোদের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ দেখা যায়। প্রাচীন কবি ও সাহিত্যিকরা শীতের সূর্যকে উষ্ণতা ও আশার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। ঐতিহ্যবাহী লোককথা ও বিশ্বাসে বলা হয়, শীতের রোদে শরীর গরম হলে রোগ সেরে যায় এবং শিশুর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। এই বিশ্বাসের ভিত্তি প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও পাওয়া যায়, যেখানে শীতের সূর্যকে দেহের দোষ কমানোর উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে রোমান সভ্যতায় সোলারিয়াম নামে বিশেষ কক্ষ নির্মাণ করে সূর্যস্নান করা হতো, যা সামাজিক রীতি ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশে সূর্যদেবের পূজা ও রোদের গুরুত্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের অংশ। ১৯শ ও ২০শ শতকের ইউরোপীয় দেশগুলোতে শীতের রোদের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু হয়, যেখানে শিশুর হাড়ের বিকাশে সূর্যালোকের ভূমিকা প্রমাণিত হয়।

আধুনিক সময়ে শীতের রোদের স্বাস্থ্যগত সুবিধা বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) শীতকালে সূর্যালোকের সংস্পর্শকে ভিটামিন ডি ঘাটতি প্রতিরোধের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে সুপারিশ করে। তাছাড়া, মনোবিজ্ঞানী গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রোদে বসে থাকা ঘুমের চক্রকে স্বাভাবিক রাখে এবং স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমায়।

শহুরে পরিবেশে রোদ পোহানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে, তবে অফিসের ছাদ, পার্কের বেঞ্চ বা বাড়ির বারান্দা ব্যবহার করে এই সুবিধা নেওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শীতের দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ১০‑১৫ মিনিট রোদে বসে থাকা যথেষ্ট, তবে ত্বকের অতিরিক্ত সূর্যস্নান থেকে রক্ষা পেতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। ত্বকের সংবেদনশীলতা বেশি হলে সূর্যালোকের সময় কমিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ানো যায়।

শীতের রোদের প্রতি লোকজনের আকর্ষণ কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যের সীমা অতিক্রম করে, এটি সামাজিক সংযোগের মাধ্যমও হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম্য বাড়ির উঠোনে বা শহরের ক্যাফের সামনে বসে রোদের আলো ভাগ করে নেওয়া, কথোপকথন ও পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। এই ধরনের অপ্রতিষ্ঠিত উত্সবের মতো মুহূর্তগুলো সমাজে এক ধরনের ঐক্যবদ্ধতা তৈরি করে।

সারসংক্ষেপে, শীতের রোদ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একাধিক উপকার প্রদান করে, এবং বাংলা সমাজে এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। রোদের সংস্পর্শকে দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ, তবে ত্বকের সুরক্ষা ও সময়ের পরিমাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি। শীতের রোদে বসে আপনি কি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি লক্ষ্য করছেন? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং শীতের উষ্ণতা উপভোগ করুন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments