ফেডারেল আদালতের একটি রায়ে গুগলের সার্চ ব্যবসা একচেটিয়া হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের (DOJ) অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় কোম্পানিটি হেরেছে। রায়ের পর গুগল আপিল দায়ের করে এবং একই সঙ্গে রায়ে নির্ধারিত প্রতিকারগুলো—প্রতিযোগীদের সঙ্গে সার্চ ডেটা ভাগ করা—প্রয়োগের সময়সীমা স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছে।
গুগল একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আগস্ট ২০২৪-এ আদালতের রায় ব্যবহারকারীর পছন্দকে উপেক্ষা করেছে। কোম্পানি যুক্তি দেয় যে মানুষ গুগল ব্যবহার করে স্বেচ্ছায়, বাধ্যবাধকতার ফলে নয়, এবং এই রায় দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ক্ষেত্র ও তীব্র প্রতিযোগিতার বাস্তবতা বিবেচনা করেনি।
বিবৃতিতে গুগল আরও উল্লেখ করেছে যে, অ্যাপল ও মজিলা সহ বেশ কয়েকটি ব্রাউজার নির্মাতা গুগলের সার্চ সেবা ব্যবহার করার কারণ হল এটি ব্যবহারকারীর জন্য সর্বোচ্চ মানের অনুসন্ধান অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই ধরনের সাক্ষ্য রায়ে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে গুগল রায়কে অসম্পূর্ণ বলে সমালোচনা করেছে।
গুগল দাবি করে যে, প্রতিযোগীদের সঙ্গে সার্চ ডেটা শেয়ার করার শর্তটি গোপনীয়তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অন্যান্য কোম্পানিকে নিজেদের পণ্য তৈরি করতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। কোম্পানি এই শর্তটি রায়ের অংশ হিসেবে প্রয়োগ করা হলে বাজারে উদ্ভাবনের গতি ধীর হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
প্রাথমিকভাবে ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় যে প্রতিকারগুলো প্রস্তাব করেছিল, তার মধ্যে গুগলকে তার ক্রোম ব্রাউজার বিক্রি করতে বাধ্য করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে গুগলকে সার্চ ডেটা শেয়ারিং এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে সিন্দিকেশন সেবা প্রদান করার শর্তে পৌঁছানো হয়। গুগল এই শর্তগুলোকে অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে দেখছে।
মামলাটি ২০২৩ সালে দশ সপ্তাহের একটি ট্রায়াল দিয়ে শেষ হয়। ট্রায়ালের সময় আদালত গুগলের সার্চ সেবাকে একচেটিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে, প্রধানত কারণ গুগল বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে এবং সার্চ ফলাফলে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রাখে। এই দুইটি বিষয়ই ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালের মূল অভিযোগের মূল ভিত্তি ছিল।
গুগলের আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন, কোম্পানি রায়ে নির্ধারিত প্রতিকারগুলোকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য আদালতে অনুরোধ জানিয়েছে। গুগল যুক্তি দেয় যে, ডেটা শেয়ারিং বাধ্যতামূলক করা হলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাজারে নতুন প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে যাবে।
অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় গুগলের অবস্থান এবং রায়ের পরিণতি প্রযুক্তি শিল্পে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে, ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় ডেটা শেয়ারিংকে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে গুগল এটি গোপনীয়তা ও উদ্ভাবনের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
এই বিতর্কের মূল বিষয় হল ব্যবহারকারীর পছন্দ, গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। গুগল ও ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় উভয়ই দাবি করে যে, তাদের প্রস্তাবিত সমাধানই সর্বোত্তম, তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কোন পথই গ্রহণযোগ্য হবে।
গুগল আপিলের ফলাফল এবং ডেটা শেয়ারিংয়ের স্থগিতকরণ অনুরোধের পরবর্তী পদক্ষেপ প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠন করবে। যদি গুগল রায়ের কিছু অংশে সফল হয়, তবে ডেটা শেয়ারিং বাধ্যতামূলক না হয়ে বাজারে নতুন উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা উন্মোচিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়, তবে ছোট ও মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোকে গুগলের ডেটা ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ বাড়বে।
এই মামলার পরিণতি কেবল গুগলের ব্যবসায়িক কৌশল নয়, বরং সার্চ ইঞ্জিন বাজারের কাঠামো, বিজ্ঞাপন শিল্প এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে, আদালত কীভাবে সমন্বয় করবে তা প্রযুক্তি খাতের সকল অংশীদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



