ইরানের পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান গত সপ্তাহে বিদেশি তহবিলের মাধ্যমে সঞ্চালিত বিশাল দাঙ্গার পর এখন পুরো দেশেই শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, এ কথা তিনি টেলিভিশনে জানিয়েছেন। রাদান উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা সন্ত্রাসবাদের কফিনে শেষ আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ প্রধানের মতে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের সীমান্তের বাইরে থেকে নতুন দাঙ্গার ডাক শোনা গেলেও দেশের কোনো প্রান্তে কোনো অশান্তি বা সহিংসতা ঘটেনি। নিরাপত্তা দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সম্ভাব্য হুমকি দমন করেছে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই রাতকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে শান্ত রাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, রাতের অন্ধকারে কোনো গুলিবর্ষণ, ধ্বংসাবশেষ বা প্রতিবাদকারীর উপস্থিতি দেখা যায়নি, যা পূর্বের উত্তেজনার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করে।
অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদকে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ব্যবসায়ী শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন। এই সমাবেশগুলো দ্রুতই বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপান্তরিত হয়, যা সরকারকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদে দাবি করেন, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই দাঙ্গা পরিচালনার জন্য সমন্বয় কেন্দ্র গঠন করেছিল। তিনি আরও বলেন, উভয় দেশ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কাছে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করছিল। এই তথ্যগুলো সরকারকে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কতা জাগাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য অর্জনের দাবি করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বহু সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অস্ত্রশস্ত্রের বড় মজুদ ধ্বংস করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হিংসা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সরকারকে এখন অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিবেচনা ও জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে, শান্তি বজায় রাখতে জনসাধারণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অবৈধ তহবিলের প্রবাহ রোধ করা অগ্রাধিকার হবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, বর্তমান শান্তি পরিবেশে ইরানের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অভ্যন্তরীণ নীতি সমন্বয় করতে সক্ষম হতে পারে। তবে সরকারকে এখনও অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় বিশাল প্রতিবাদে রূপান্তরিত না হয়।
সারসংক্ষেপে, এক সপ্তাহের অস্থিরতার পর ইরানে এখন সম্পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই ফলাফলকে সম্ভব করেছে। সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা উভয়ই আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রেখে দেশীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



