22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজেলেন্স্কি: ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা সরবরাহ অপর্যাপ্ত, শীঘ্রই রকেট ডেলিভারি দরকার

জেলেন্স্কি: ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা সরবরাহ অপর্যাপ্ত, শীঘ্রই রকেট ডেলিভারি দরকার

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেন্স্কি শুক্রবার সকালে জানিয়েছেন যে দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বেশ কয়েকটি সিস্টেমে রকেটের অভাব ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের দিনেই নতুন রকেটের একটি বড় প্যাকেজ পৌঁছেছে, তবে সামগ্রিক সরবরাহ এখনও পর্যাপ্ত নয়।

রাশিয়ার তীব্র বোমাবর্ষণ দেশের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহকে লক্ষ্যবস্তু করে, যার ফলে শীতের তীব্রতায় হাজারো মানুষ তাপ ও আলো ছাড়া রয়ে গেছে। এই আক্রমণগুলো বিশেষ করে শীতের মাসে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, যখন তাপমাত্রা -১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়।

কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন যে শীতের তীব্রতা এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শহরের স্কুলগুলো ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীরা ঘরে থেকে অনলাইন শিক্ষা গ্রহণ করতে বাধ্য, আর শহরের বাসিন্দারা তাপমাত্রা হ্রাসের সাথে সাথে বাড়িতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের জন্য সংগ্রাম করছেন।

জেলেন্স্কি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দ্রুত রকেট সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন, তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে এই ডেলিভারিগুলো শীতের অবস্থা এক রাতের মধ্যে বদলে দেবে না। তিনি টেলিগ্রামে লিখে উল্লেখ করেন, শত্রু আগামীকালও বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাবে, তাই রকেটের অবিচ্ছিন্ন সরবরাহই একমাত্র সমাধান।

ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেমের বেশিরভাগই পশ্চিমা দেশ থেকে প্রাপ্ত, এবং এই সিস্টেমগুলো নিয়মিত রকেটের প্রয়োজনীয়তা রাখে। জেলেন্স্কি জোর দিয়ে বলেছেন যে রকেটের ধারাবাহিক সরবরাহ ছাড়া এই সিস্টেমগুলো কার্যকর থাকবে না, এবং তা দেশের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

এ ধরনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে যে প্রচেষ্টা করা হয়, তা বিশাল মানবিক ও আর্থিক ব্যয় দাবি করে। জেলেন্স্কি উল্লেখ করেন, রকেট প্যাকেজ সংগ্রহে রক্ত, শ্রম এবং প্রাণের ক্ষতি সহ্য করতে হয়। তিনি কিছু দেশকে সমালোচনা করে বলেন, তারা রকেট মজুদ করে রাখে যদিও তাদের নিজ দেশে কোনো যুদ্ধ চলছে না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া বৃহৎ আকারের আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলেন্স্কি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন যে সরবরাহের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা দরকার, যাতে দেশটি আক্রমণের মুখে দুর্বল না হয়।

কিয়েভের সরকার এ সপ্তাহে শক্তি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেনিস শ্মিহালকে নতুন শক্তি মন্ত্রী নিযুক্ত করেছে। নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব হল বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলা করা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা রাশিয়ার শীতকালকে শত্রুতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন। তারা দাবি করেন, মস্কো শীতের তীব্রতাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের জনগণকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, যা একটি ধরনের জ্বালানি সন্ত্রাস।

শ্মিহাল পার্লামেন্টে বলেন, রাশিয়া আমাদের উপর জ্বালানি সন্ত্রাস চালিয়ে আমাদের ভেঙে ফেলতে চায়। তিনি রাষ্ট্রের এনার্জি সংস্থাগুলোকে বিদেশি জ্বালানি আমদানি বাড়াতে নির্দেশ দেন, যাতে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে এবং নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে রশিয়ার আক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সরবরাহের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। রকেটের ঘাটতি দূর না হলে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা দুর্বল হবে, যা রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments