ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ চিফ কনস্টেবল ক্রেগ গিল্ডফোর্ড, ৬ নভেম্বর অ্যাস্টন ভিলা ও মাকাবি তেল আবিবের ম্যাচে ইসরায়েলি ভক্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পর্যালোচনায় তীব্র সমালোচনার মুখে অবসর নিলেন। গিল্ডফোর্ডের পদত্যাগ শুক্রবার সরকারীভাবে নিশ্চিত করা হয়, যখন ডাউনিং স্ট্রিট ও হোম সেক্রেটারির প্রতিনিধিরা তার নেতৃত্বে আর বিশ্বাস হারিয়েছেন বলে জানায়।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে গিল্ডফোর্ডের পার্লামেন্টের সদস্যদের সামনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা এবং এআই ব্যবহার না করা নিয়ে মিথ্যা দাবি করা উল্লেখ করা হয়। তিনি পূর্বে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করেননি যে এআই ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও তা সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি ছিল। এই ভুল তথ্যের ফলে মাকাবি তেল আবিবের ভক্তদের নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়, যা পরে তদন্তে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
অবসর ঘোষণার সময় গিল্ডফোর্ড কোনো ক্ষমা প্রার্থনা করেননি; বরং তিনি রাজনৈতিক ও মিডিয়ার অতিরিক্ত উত্তেজনা নিজেকে পদত্যাগের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, নিজের এবং পরিবারের স্বার্থে, পাশাপাশি সংস্থার মঙ্গলের জন্য অবসর নেওয়া সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত। গিল্ডফোর্ড ৫২ বছর বয়সী এবং তার ক্যারিয়ার জুড়ে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রধান হিসেবে কাজ করার গর্ব প্রকাশ করেন।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার সাইমন ফস্টার গিল্ডফোর্ডের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে একটি জটিল প্রক্রিয়া এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার কাজকর্মে বড় ধরনের ব্যাঘাত ও অতিরিক্ত ব্যয় ঘটাতে পারত। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপ সংস্থার কার্যক্রমকে স্থিতিশীল রাখবে এবং ভবিষ্যতে অনাবশ্যক ব্যয় কমাবে।
ফস্টার আরও যোগ করেন, এই ফলাফলটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও আইন অনুসারে অর্জিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি সমন্বিত, শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও সম্মানজনকভাবে সমাধান হয়েছে, যা সংস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
পুলিশ তদারকি সংস্থার প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাকাবি তেল আবিবের ভক্তদের নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার সিদ্ধান্তে “নিশ্চিত পক্ষপাতিত্ব” প্রভাব ফেলেছে। এই পক্ষপাতিত্বের ফলে সিদ্ধান্তটি যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে না হয়ে, পূর্বধারণা ও রাজনৈতিক চাপের ফলস্বরূপ গৃহীত হয়।
হিসাব রক্ষক স্যার অ্যান্ডি কুক, যিনি হিসাব রক্ষক প্রধান, উল্লেখ করেন যে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের দ্বারা নিরাপত্তা পরামর্শদাতা গোষ্ঠীকে উপস্থাপিত রিপোর্টে বেশ কয়েকটি ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ভুল ছিল মাকাবি তেল আবিব ও ওয়েস্ট হ্যামের মধ্যে অপ্রকাশিত একটি ম্যাচের উল্লেখ, যা বাস্তবে কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
এই ভুল তথ্যের প্রমাণ পার্লামেন্টের সদস্যদের সামনে গিল্ডফোর্ডের সাক্ষ্যেও উঠে আসে। তিনি প্রথমে যে তথ্য উপস্থাপন করেন, তা পরবর্তীতে ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং তদন্তের নতুন দিক উন্মোচিত করে।
পদত্যাগের পরও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদারকি ও আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি রিপোর্টের সঠিকতা, এআই ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা যাচাই করতে অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাবে।
এই ঘটনা পুলিশ সংস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা উস্কে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের সিদ্ধান্তে স্বাধীন তদারকি ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে অনধিকারিক নিষেধাজ্ঞা ও ভুল তথ্যের প্রভাব কমে।
গিল্ডফোর্ডের পদত্যাগের ফলে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা শীঘ্রই নতুন চিফ কনস্টেবল নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব হবে সংস্থার বিশ্বাস পুনর্গঠন, তদারকি সংস্থার সুপারিশ মেনে চলা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ত্রুটি এড়ানো।
সারসংক্ষেপে, ইসরায়েলি ভক্ত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিতর্ক ও ভুল তথ্যের প্রকাশের পর গিল্ডফোর্ডের অবসর, পুলিশ সংস্থার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক তদারকি প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। এখন থেকে সংস্থার কাজকর্মে স্বচ্ছতা, আইনি মানদণ্ডের অনুসরণ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও বিশ্বাস বজায় থাকে।



