১ জানুয়ারি, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, ঢাকা-তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা একত্রিত হন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
ইউনূস উপস্থিতি এবং তার মন্তব্যগুলোকে আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত সমবেত হওয়া এবং সংহতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সমাবেশের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্যবদ্ধ চেতনা এখনও সক্রিয় এবং দৃঢ়।
খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাশাপাশি নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের পর তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন।
অতিথিরা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তাঁর গণতন্ত্রের জন্য অবিচল সংগ্রাম এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদানের কথা স্মরণ করেন। রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তারা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন, যা ইউনূসের মতে জিয়ার প্রতি জনগণের ভালবাসা ও সম্মানের সূচক।
ইউনূস বৈঠকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মালদ্বীপের মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জানাজায় সার্কের মূল চেতনা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা এখনও জীবিত রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল সার্ক সক্রিয় ছিল এবং অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা সার্কের পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
ইউনূস নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে সার্ক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সমাবেশের প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি এমন একটি সংক্ষিপ্ত মিলনমেলা আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যদিও সময় সীমা মাত্র পাঁচ মিনিটের হলেও।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য সার্ককে একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, সংস্থার কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে আঞ্চলিক সমন্বয় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে ইউনূস জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হবে। তিনি নির্বাচন শেষে তার পূর্বের পেশাগত কাজে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশের ডাকযোগে ভোটদান ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইউনূস এ বিষয়ে জানিয়ে দেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
সার্কের পুনরুজ্জীবন, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর, উপস্থিত সবাই একমত হন যে আঞ্চলিক সংহতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উভয়ই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল ভিত্তি।



