ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি এলাকায় ছাত্রদের বহনকারী একটি বাসে হঠাৎ হামলা ঘটার পর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিউমার্কেট থানায় অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ জানুয়ারি রাতের দিকে, যখন সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষার্থী সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় রাস্তায় প্রতিবাদ জানিয়ে অবরোধ গড়ে তুলেছিল। একই সময়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাসটি ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার পথে অবরোধের মধ্যে আটকে যায়।
অবরোধের মাঝখানে বাসটি নিরাপদে সরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পরিবহন ব্যবস্থাপক现场 উপস্থিত হন এবং গাড়িটিকে সুরক্ষিত করে তোলেন। তবে বাসটি সরানোর সময়ই অবরোধকারীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ চালায়, ফলে কয়েকজন ছাত্র আহত হয়। আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
বিপদের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান নিরাপত্তা বিষয়ক জরুরি আলোচনা করেন। তিনি দেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা চেয়ে জানান। এছাড়া, উপাচার্য স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে ভবিষ্যতে ছাত্রদের যাতায়াতের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুরোধ করেন।
ঢাবি শিক্ষার্থীরা হামলার প্রতিবাদে ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নীলক্ষেত এলাকায় সমাবেশ করে প্রতিবাদসূচক র্যালি ও বিক্ষোভের আয়োজন করে। র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র নেতারা, পাশাপাশি ডিএকএস (ডাকসু) নেতৃবৃন্দ এবং শ্রী জহুরুল হক, যিনি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামে সংসদ সদস্যের পদধারী। র্যালির সময় উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর ও সহ-প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ শিক্ষকগণ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৫ জানুয়ারি রাতে অবরোধের সময় বাসে আক্রমণ ঘটার পরই নিউমার্কেট থানায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, উপাচার্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে তাত্ক্ষণিক আলোচনা করেছেন এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।
বছরের শেষের দিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে ক্যাম্পাসের চারপাশে নিরাপত্তা গার্ড বাড়ানো, বাস রুটের নিরাপদ রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।
প্রশাসনিক দিক থেকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পরিবহন ম্যানেজারকে ঘটনাস্থলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রশংসা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রয়োজন, যা শুধুমাত্র এককালীন আইনি পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ নয়।
এই ঘটনার পর, শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া যায়: প্রথমত, যাতায়াতের সময় গোষ্ঠীভুক্ত হয়ে চলা এবং অপ্রত্যাশিত অবরোধের ক্ষেত্রে বিকল্প রুটের তথ্য আগে থেকেই জানা উচিত। দ্বিতীয়ত, কোনো হিংসাত্মক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে পুলিশ বা ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে যাতায়াতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট গ্রহণ করা উচিত।
ঢাবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী সংস্থার সমন্বিত কাজই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি।



