শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত টিএ২০ ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স পাঁচ রানের পার্থক্যে সিলেট টাইটান্সকে পরাজিত করে। সিলেট ১৪৮ রান চেজ করার লক্ষ্য নিয়ে শুরুরই কিছু ওভারেই দু’জন দ্রুত আউট হয়ে যায়; রিপন মন্ডল ও বিনুরা ফার্নান্দো যথাক্রমে তাওফিক খান ও ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান মিরাজকে বাদ দেন।
সিলেটের ওপেনার পারভেজ এমন ৩০ ball-এ ৪১ রান করে দলের স্কোরকে স্থিতিশীল রাখেন, আর মোমিনুল হক অন্য প্রান্তে অগ্রসর হন। তবে ১০ম ওভারে এমন আউট হয়ে ৬৪/৩ স্কোরে সিলেটের শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে রাজশাহীর বোলাররা চাপ বাড়িয়ে স্কোরের প্রবাহকে থামাতে সক্ষম হন।
অফিসিয়াল চেজে ১৬ রান করে ১৫ ball-এ আফিফ হোসেন এবং ৩১ রান করে ৩৬ ball-এ মোমিনুল হক দুজনই দ্রুত আউট হন, যা সিলেটের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। শেষ দুই ওভারে ২৫ রান বাকি থাকায় মোইন আলি শটের মাধ্যমে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি করেন; তিনি রিপন মন্ডলের ওপর দুইটি ধারাবাহিক ছয়ের শট মারেন, যা টাইটান্সের গতি পরিবর্তন করে।
কিন্তু মোইনের উত্সাহের মাঝেই তানজিদ হাসান তামিম ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে চমৎকার ক্যাচ নিয়ে তাকে ১২ ball-এ ২৭ রান করে আউট করেন। শেষ ওভারে সিলেটকে আটটি রান দরকার ছিল, তখন বিনুরা ফার্নান্দো শারীরিক সমস্যার কারণে প্রথমে দুইটি ওয়াইড দেন, তবে শেষ ডেলিভারিতে সঠিক ইয়র্কার দিয়ে রুইয়েল মিয়াহকে আউট করে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেন। রিপন মন্ডল ৪ উইকেট নিয়ে ৩৪ রান দিয়ে সর্বোচ্চ বোলার হিসেবে শিরোপা জিতেন।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। শুরুরই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাত্র সাত ball-এ নয় রান এবং সাহিবজাদা ফারহান ১২ ball-ে ১৪ রান করে আউট হন। ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তো ও মুশফিকুর রহমান পরবর্তী সময়ে ৫৬ রান partnership গড়ে তোলেন, যা দলকে স্থিতিশীলতা দেয়।
মেহেদি হাসান মিরাজ ২১ ball-এ ৩৪ রান করে শান্তোর পায়ে লেগ-ব্যিফোর (LBW) করে তাকে আউট করেন, ফলে আরেকটি পতন শুরু হয়। মুশফিকুর ৩০ ball-এ ৪০ রান করে দলের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন, তবে তিনি নাসুম আহমেদকে আউট করে দলকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন। এরপরের ওভারগুলোতে অতিরিক্ত উইকেটের পরিণতি ঘটলেও, শেষ পর্যন্ত রাজশাহী বোলারদের ধারাবাহিকতা ও সঠিক পরিকল্পনা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
এই জয় দিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স টুর্নামেন্টের টেবিলে অগ্রগতি বজায় রাখবে, আর সিলেট টাইটান্সকে পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করতে হবে। উভয় দলে পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত, যেখানে ভক্তদের প্রত্যাশা থাকবে নতুন উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা।



