ঢাকার উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নং সড়কের একটি আবাসিক ভবনে সকাল আটটায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের ফলে ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। মৃতদের মধ্যে ছিলেন খোরশেদুল আলমের একমাত্র পুত্র ফজলে রাব্বি, তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার এবং দুই‑আধা বছর বয়সী পুত্র মো. রিশান।
ফজলে রাব্বি স্কি‑এফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন, আর আফরোজা আক্তার স্কোয়ার গ্রুপের কোনো শাখায় কাজ করতেন। দুজনই ঢাকায় কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন এবং গ্রাম্য বাড়িতে কমই আসতেন। তাদের ছোট ছেলে রিশানও একই সময়ে বাড়িতে ছিলেন।
আগুনটি প্রথমে ভবনের তলতলা অংশে ধরা দেয়া হয়। দ্রুতই শিখা উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তৃতীয় তলায়ও পৌঁছে। তলতলার বাসিন্দারা অগ্নিকাণ্ডের সময় নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারেন, তবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় থাকা ছয়জনের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে।
অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা জানান, ধোঁয়া দ্রুত উপরের তলায় উঠে গিয়ে শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তদুপরি, আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঠামোগত ক্ষতি বাড়ে, ফলে উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকার অগ্নি ও উদ্ধার বিভাগও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারা জানান, আগুনের বিস্তার রোধে বেশ কিছু হোস পাইপ ও ফোম ব্যবহার করা হয়। তদুপরি, ত্রাণকর্মী দল দ্রুত আহত ও শ্বাসরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি, কারণ শ্বাসরুদ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে ছিলেন।
মৃত্যু সংবাদে খোরশেদুল আলম, যিনি বয়সের পরিপক্কতা অতিক্রম করেছেন, গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরে এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি জানান, আগুনের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ গাড়ি চালিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন।
বিকালের দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের বড় মসজিদে তিনজনের শেষকৃত্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। মৃতদেহগুলোকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে মসজিদে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়। দাফনের পর খোরশেদুল আলম নিজে গাড়ি চালিয়ে দেহগুলোকে শেষবারের মতো দেখেন।
দুঃখের মুহূর্তে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “ছেলেটা পরিবারসহ চলে গেল, আমি কিছুই করতে পারিনি।” তার কণ্ঠে শোকের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।
খোরশেদুল আলমের একমাত্র পুত্র ফজলে রাব্বি ছিলেন, আর তার একটি কন্যা আছে, যাকে বিয়ে করে অন্য বাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি বর্তমানে গ্রাম্য বাড়িতে তার স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে থাকেন।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর পরিবারে আর কোনো সন্তান বেঁচে নেই; তাই তিনি উল্লেখ করেন, “আলো জ্বালানোর মতো আর কেউ রইল না।” তার বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে ঢাকা।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণে পুলিশ ও অগ্নি বিভাগ একত্রে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনাটি শহরের আবাসিক ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবনের বৈদ্যুতিক সিস্টেমের নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।



