ব্রেন্টফোর্ডের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো এই মৌসুমে ২১টি প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ১৬টি গোলের মাধ্যমে দলকে গৌরবময় অবস্থানে নিয়ে গেছেন। এই পারফরম্যান্স তাকে রবার্তো ফার্মিনো, মাতেউস কুনহা ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির সর্বোচ্চ একক মৌসুমের ১৫ গোলের রেকর্ডকে অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে। তার এই সাফল্য ব্রিটিশ ফুটবলে ব্রাজিলের নামকে নতুন করে উজ্জ্বল করেছে।
ইগর থিয়াগোর শৈশব ছিল কঠিন; ছোটবেলায়ই পিতার অকাল মৃত্যু তাকে বড় হতে বাধ্য করেছিল। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ইটের কাজের সহকারী, বাজারে ফল বহনকারী এবং গাড়ি ধোয়াকার মতো নানা কাজ করেছেন। এইসব শ্রমিক কাজের মধ্যে কাটিয়ে তিনি ফুটবলের প্রতি তার স্বপ্নকে কখনো ত্যাগ করেননি।
প্রারম্ভিক ক্যারিয়ারে তিনি বর্ণবাদী বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে তার দৃঢ়সংকল্প তাকে বাধা অতিক্রমে সহায়তা করেছে। ব্রাজিলের স্থানীয় লিগে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পরই ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর দৃষ্টি তার দিকে আকৃষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ব্রেন্টফোর্ডে স্বাক্ষর করেন।
তবে তার যাত্রা সহজ ছিল না; দুইটি গুরুতর হাঁটু আঘাত তাকে গত মৌসুমের বেশিরভাগ সময় মাঠ থেকে দূরে রাখে। ফলস্বরূপ, তিনি প্রথম মৌসুমে মাত্র আটটি ম্যাচই খেলতে পেরেছিলেন। এই সময়ে তিনি শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে নিজের পুনরুদ্ধারের পথে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান।
আঘাতের পর তিনি নিজের দুর্বল দিকগুলোকে উন্নত করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। কঠোর প্রশিক্ষণ এবং পুনর্বাসন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি শারীরিক শক্তি ও গেমের বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সক্ষম হন। তার মতে, এই সময়টি তার ক্যারিয়ারের জন্য এক ধরনের শিক্ষণীয় মুহূর্ত ছিল, যা তাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
বর্তমানে থিয়াগো প্রিমিয়ার লিগে ২১টি ম্যাচে ১৬টি গোলের সঙ্গে দলের শীর্ষ স্কোরার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। বাকি ১৭টি ম্যাচের মধ্যে প্রথমটি শেনলির বিরুদ্ধে শনিবারে অনুষ্ঠিত হবে, যা তার গোলের ধারাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে লিগের শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইগর থিয়াগো ভবিষ্যতে ব্রাজিলের জাতীয় দলে যুক্ত হয়ে বিশ্বকাপের নং ৯ জার্সি পরার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে ব্রেন্টফোর্ডে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে সহায়তা করবে। তার এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি আরও কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সংক্ষেপে, দারিদ্র্য, বর্ণবাদ এবং আঘাতের মতো বাধা সত্ত্বেও ইগর থিয়াগো তার কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়সংকল্পের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড গড়ে তুলেছেন। তার বর্তমান ফর্ম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তাকে ব্রাজিলের ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে, এবং শেনলির সঙ্গে আসন্ন ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের অপেক্ষা সকল ভক্তের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে।



