সিরাজগঞ্জের আদালত প্রাঙ্গণে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত জুলাই মাসের গণভোটের প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ভোটারদেরকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করেন, কারণ তিনি এটিকে দেশের মঙ্গলের জন্য অপরিহার্য সংস্কার হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই প্রচারমূলক কার্যক্রমের মূল আকর্ষণ ছিল সুপার ক্যারাভান, যা ভোটারদের গন্তব্যে পৌঁছে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়।
প্রচার অনুষ্ঠানে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন যে, গণভোটের মাধ্যমে দেশের কাঠামোগত সংস্কার চালু করা হবে এবং এই সংস্কার সকলের মঙ্গলের জন্যই কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন সরকার যাই হোক না কেন, সংস্কারের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য। তার মতে, সংস্কার কেবল একপেশে সীমাবদ্ধ না হয়ে সমগ্র সমাজের উন্নয়নকে লক্ষ্য করা উচিত।
উক্তি অনুসারে, ড. আহমেদ বিশ্বাস করেন বাংলাদেশী জনগণ যথেষ্ট বুদ্ধিমান এবং দেশের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সবকিছু বুঝতে সক্ষম। তাই তিনি ভোটারদেরকে আহ্বান জানান যে, দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটই একমাত্র সঠিক পথ। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারকে একতরফা না রেখে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া দরকার, যাতে সকল স্তরের মানুষই এর সুফল পায়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. এ. এন. এম. বজলুর রশীদ করেন। উদ্বোধনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সমাবেশে অংশ নেন।
উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রচারাভিযান জাতীয় সনদ সংক্রান্ত ভোটের আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত একাধিক সমাবেশের একটি। ভোটারদের সরাসরি পৌঁছে তাদের মতামত গঠন করতে সুপার ক্যারাভান ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভোটের গুরুত্বকে দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা একত্রে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন এবং ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জুলাই মাসে নির্ধারিত গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বর্তমান সরকার যে সংস্কারমূলক দিকগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও ভোটের ফলাফলকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাদের নিজস্ব নীতি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে পারে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের এই আহ্বান দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশে একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে যে, সংস্কারকে অগ্রসর করতে ভোটারদের সমর্থন অপরিহার্য। তিনি পুনরায় জোর দেন যে, সংস্কার একপেশে সীমাবদ্ধ না হয়ে সমগ্র জাতির উন্নয়নকে লক্ষ্য করা উচিত, এবং এজন্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটই একমাত্র সঠিক পদক্ষেপ।
সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে জাতীয় সনদ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গণভোটের প্রস্তুতি আরও দৃঢ় হয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা একসাথে কাজ করে ভোটারদেরকে সঠিক তথ্য প্রদান এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তাই ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।



