27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে বিরোধী দেশের ওপর শুল্কের হুমকি দেন

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে বিরোধী দেশের ওপর শুল্কের হুমকি দেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ওয়াইট হাউসে একটি সভায় গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণে বিরোধী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ডেনমার্কের অধীনস্থ স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় সমর্থন না করে, তবে শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করা হবে। তিনি এই কথা ওয়াইট হাউসের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সভায় বলেন, যা দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। শুল্কের আইনি ভিত্তি বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেশ সম্পর্কে তিনি কোনো বিশদ দেননি।

গ্রিনল্যান্ড একটি স্বশাসিত অঞ্চল, যার জনসংখ্যা কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং উত্তর আটলান্টিকের কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই ভূখণ্ডের মাধ্যমে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়। অতএব, ট্রাম্পের নিরাপত্তা যুক্তি এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের একই সময়ে, একটি দ্বিপাক্ষিক কংগ্রেসিয়াল দল গ্রিনল্যান্ডে সফর করে। এই ১১ সদস্যের দলটিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পার্টির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস কুনস নেতৃত্ব দেন। দলটি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও দেখা করে।

সেনেটর কুনস সফরের উদ্দেশ্যকে স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে নিয়ে যাওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি গঠনে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং “তাপমাত্রা কমানো”—অর্থাৎ উত্তেজনা হ্রাস করা—লক্ষ্য। রিপাবলিকান সদস্যদেরও গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের নিরাপত্তা যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পায়।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। পিটুফিক বেসে ১০০টিরও বেশি সৈন্য স্থায়ীভাবে কাজ করে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে ইচ্ছামতো সৈন্য পাঠানোর অধিকার রয়েছে। এই ভিত্তিতে, ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি সামরিক সহযোগিতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকারী সূত্রগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোনো অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বেশ কিছু বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদ গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণকে বাস্তবিক ও কূটনৈতিকভাবে কঠিন বলে মন্তব্য করেন। তারা উল্লেখ করেন, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ভবিষ্যতে, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহের ফলে কংগ্রেসে আলোচনা বাড়তে পারে। যদি শুল্কের বাস্তবায়ন হয়, তবে তা ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও সামরিক চুক্তির পুনঃমূল্যায়নকে উস্কে দিতে পারে। একই সঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের স্বশাসন ও পরিবেশগত স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়বে। এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া দেশের নিরাপত্তা নীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments