মিউনিখে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে একটি শ্রমিক সমাবেশে গাড়ি চালিয়ে দুজনের প্রাণ নেওয়া ২৫ বছর বয়সী আফগান নাগরিকের বিচার আজ শহরের একটি আদালতে শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে ফারহাদ এন (নাম গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত) হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে এবং তাকে গাড়ি চালিয়ে জনসমাগমে আক্রমণ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, ফারহাদ এন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সকালে তার বিএমডব্লিউ মিনি গাড়ি নিয়ে মিউনিখের কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে প্রবেশ করে গাড়ি চালিয়ে জনসাধারণের ওপর আঘাত হানেন। ঐ দিন সমাবেশে প্রায় ১,৪০০ কর্মী ও নাগরিক অংশগ্রহণ করছিলেন, যারা বেতন ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবি জানাচ্ছিলেন।
গাড়ি আঘাতের ফলে ৩৭ বছর বয়সী আমেল নামের এক নারী এবং তার দুই বছর বয়সী কন্যা হাফসা গাড়ি চালকের গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে দুজনই শীঘ্রই তাদের আঘাতের ফলে প্রাণ হারান। উভয়ের মৃত্যু মিউনিখের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আক্রমণে মোট ৪৪ জন আহত হন, যার মধ্যে কিছুজনের আঘাত গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কর্মস্থল থেকে আসা হাসপাতাল ও ডে-কেয়ার কর্মীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা সমাবেশে অংশগ্রহণের সময় গাড়ি আঘাতে আহত হয়েছেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের মধ্যে হাসপাতাল কর্মী, শিশু যত্ন কর্মী এবং অন্যান্য শহর কর্মী ছিলেন, যারা উচ্চ বেতন ও কাজের শর্ত উন্নত করার জন্য প্রতিবাদ করছিলেন। আমেল নিজে একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং তিনি চার বছর বয়সে আলজেরিয়া থেকে জার্মানিতে আসা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
ফারহাদ এনের বিচার মিউনিখের আদালতে সমাবেশের কয়েকশো মিটার দূরে অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে প্রবেশের সময় অভিযুক্ত একটি লাল ফোল্ডার দিয়ে তার মুখ ঢেকে রাখেন এবং ডান হাতের তর্জনী তুলে একটি সাধারণ ইসলামী অঙ্গভঙ্গি করেন, যা এক ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রসিকিউশন দাবি করে, অভিযুক্তের কাজের পেছনে ধর্মীয় উগ্রতাবাদী প্রেরণা রয়েছে। তারা বলেন, ফারহাদ এন বিশ্বাস করতেন যে মুসলিমদের প্রতি বৈশ্বিক দমনকে প্রতিক্রিয়া জানাতে জার্মানিতে র্যান্ডমভাবে মানুষকে আক্রমণ ও হত্যা করা তার ধর্মীয় দায়িত্ব।
আক্রমণের পর অভিযুক্ত গাড়ি চালিয়ে গিয়ে “আল্লাহু আকবর” চিৎকার করে এবং পরে প্রার্থনা করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এই বিবরণে দেখা যায়, আক্রমণের সময় তার মুখে ধর্মীয় উচ্ছ্বাসের প্রকাশ ছিল।
তদন্তে পাওয়া যায় যে ফারহাদ এন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উগ্র ধর্মীয় বক্তাদের ভিডিও দেখেন, তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তিনি ইসলামিক স্টেট বা অন্য কোনো জিহাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই নিরাপত্তা সংস্থা তাকে কোনো সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেনি।
বিচারক কক্ষে অভিযুক্তের আইনজীবী তার ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করেননি এবং আক্রমণ বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার কথা জানান। এদিকে, ফারহাদ এন ২০১৬ সালে কিশোর বয়সে জার্মানিতে প্রবেশ করেন এবং শরণার্থী হিসেবে বসবাস শুরু করেন।
২০১৫-২০১৬ সালে ইউরোপীয় শরণার্থী সংকটের শীর্ষে জার্মানি এক মিলিয়নেরও বেশি শরণার্থী গ্রহণ করেছিল, যা দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল এবং ডানপন্থী আফডি পার্টির সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে ফারহাদ এনের মামলা দেশের অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে।
বিচার চলাকালীন প্রমাণ উপস্থাপন এবং সাক্ষী জিজ্ঞাসা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। আদালত এখন পর্যন্ত কোনো দোষী সাব্যস্তের সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত শুনানি ও আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে।



