ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, শুক্রবার বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় জানালেন যে, জাতীয় পে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার পরবর্তী বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।
এটি ১০ থেকে ১২ বছর পর পুনরায় গঠিত পে কমিশনের প্রথম বৃহৎ কাজ, যা দেশের বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করে একটি বিস্তৃত সুপারিশ পত্র প্রস্তুত করেছে। ড. সালেহউদ্দিন উল্লেখ করেন, কমিশন গঠন থেকে এখন পর্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে আসছে এবং তার ফলাফল সরকারকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গণভোট সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গণভোটকে সমর্থন করছে। তিনি জোর দেন, জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করতে গণভোটে অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং বর্তমান সরকারই সংস্কারকে এগিয়ে নিতে গণভোটের মাধ্যমে জনমত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
ড. সালেহউদ্দিনের মতে, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সংস্কার কর্মসূচি কিছুটা ধীরগতি ছিল, তবে বর্তমান সরকার এই ধারাকে ত্বরান্বিত করার জন্য গণভোটের ব্যবহারকে কৌশলগতভাবে গ্রহণ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে আসন্ন সরকারের সংস্কার পরিকল্পনাকে সহায়তা করার জন্য এই গণভোটের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গুরুদাসপুরে উপস্থিত মিডিয়ায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, পে কমিশনের সুপারিশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায্য হতে হবে, যাতে কর্মচারী ও শ্রমিক উভয়েরই স্বার্থ রক্ষিত হয়। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, সরকারকে সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বেতন কাঠামোর আধুনিকায়ন ও মজুরি বৃদ্ধির প্রয়োজন মেটানো যায়।
অধিকাংশ বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘোষণাকে দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও শ্রম বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, পে কমিশনের সুপারিশের বাস্তবায়ন শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও শ্রমিক সংগঠন এখনও পে কমিশনের সুপারিশের কিছু ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, বিশেষ করে বেতন কাঠামোর পুনর্গঠন ও মজুরি বৃদ্ধির হার সম্পর্কে। তারা দাবি করছে, সরকারকে সকল স্টেকহোল্ডারের মতামত শোনা এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত।
ড. সালেহউদ্দিনের মন্তব্যের পর, সরকারী প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেন যে, পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের কাজ দ্রুততর করা হবে। তারা উল্লেখ করেন, গণভোটের ফলাফলকে নীতি নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং তা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
এই ঘোষণার পর, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে আশাবাদী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আশা করছেন, নতুন বেতন কাঠামো তাদের জীবনের মানোন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তবে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও নির্দিষ্ট ধাপগুলো এখনও স্পষ্ট নয়, যা পরবর্তী সপ্তাহে সরকারী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
সারসংক্ষেপে, জাতীয় পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর সরকারকে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে সরকারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে গণভোটের ফলাফল ও পে কমিশনের সুপারিশের বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও শ্রম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



