ঢাকা‑উত্তরা‑১১ নম্বর রোডের একটি ছয়তলা ভবনে গত রাতের অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মধ্যে তিনজনের প্রাণ ত্যাগ করা হয়। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের দেহ এখন ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে পাশাপাশি কবরস্থানে রাখা হবে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেচ উদ্দিন (৪৭), তাঁর কন্যা রাহাব চৌধুরী (১৭) এবং শ্রীমতি শহীদুল ইসলামের কন্যা রোদেলা আক্তার (১৫)। রাহাব উচ্চমাধ্যমিকের শেষ বর্ষে এবং রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। উভয় পরিবার ১৯৯৪ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে উত্তরা‑১১ নম্বর রোডের ১৮ নম্বর রোডে বসতি স্থাপন করে, যেখানে ফলের ব্যবসা চালাতেন।
আগুনের সূত্রপাত ঠিক সকাল ১০টায় উত্তরা জমজম এলাকায় একটি বাসাটিতে ঘটে। ধোঁয়া ও তাপের প্রভাবে হারেচ উদ্দিন, তাঁর ছেলে রাহাব এবং শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাড়ির অন্যান্য তিনজন বাসিন্দা নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
মৃতদের দেহকে দড়িপাঁচাশি গ্রামে দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসা‑সংলগ্ন মসজিদের পাশে তিনটি কবরস্থানে সমানভাবে সমাহিত করা হবে। আজ রাতের জানাজা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ মসজিদ ও মাদ্রাসার সঙ্গে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেচ উদ্দিনের কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় মানুষদের মতে, হারেচ উদ্দিনের দোকানে পূর্বে কাজ করতেন মনির হোসেন জানান, হারেচ উদ্দিন দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ বাসা ভাড়া করে থাকতেন, আর শহীদুল ইসলাম তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই বাড়িতে থাকতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় হারেচের তিন বছর বয়সী ছেলে আরহান চৌধুরী মায়ের সঙ্গে মিরপুরে ছিলেন, আর শহীদুলের স্ত্রী সকালে সন্তানকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে গিয়েছিলেন; এরপর তিনি দোকানে গিয়ে ফিরে আসার আগে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল।
মৃতের চাচা নজরুল ইসলাম জানান, সকাল ১১টায় পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দু’টি পরিবারই দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছিল। এ ধরনের হঠাৎ মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকাহত।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। ঘটনাটিকে অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা হিসেবে রেজিস্টার করে, সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফরেনসিক দল ভবনের কাঠামো, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভবনের অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করেনি বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাই, ভবনের মালিক ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হতে পারে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে।
বিপর্যয়গ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারী সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে কিনা, তা পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারিত হবে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করেছে এবং দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজের সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ পেয়েছে। মসজিদ ও মাদ্রাসার কর্মীরা মৃতদের পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অগ্নি নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।



