নিউ ইয়র্কের আদালতে বৃহস্পতিবার অ্যাশলি স্ট ক্লেয়ার, যিনি এলন মাস্কের এক সন্তানের মা, তার কোম্পানি xAI‑এর বিরুদ্ধে ডীপফেক তৈরি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের মূল বিষয় হল, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X‑এর অধীনস্থ Grok নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলটি তার যৌনবিষয়ক ভুয়া ছবি তৈরি করেছে।
স্ট ক্লেয়ার দাবি করেন, X‑এর ব্যবহারকারীরা তার ১৪ বছর বয়সের পূর্ণদেহের ছবি সংগ্রহ করে Grok‑কে তাকে বেসামরিকভাবে উন্মুক্ত করে বিকিনি পরাতে অনুরোধ করেন, এবং সিস্টেমটি তা সম্পন্ন করেছে। এছাড়া, টুলটি তাকে স্ট্রিং বিকিনি পরিহিত অবস্থায় স্বস্তিকর চিহ্নসহ (স্বস্তিকর চিহ্নের পরিবর্তে স্বস্তিকর চিহ্ন) চিত্র তৈরি করেছে, যা তার ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে আঘাত করেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ছবিগুলি ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তৈরি হয়েছে এবং Grok‑এর ডেভেলপাররা এই অননুমোদিত ব্যবহারের ব্যাপারে জানত। স্ট ক্লেয়ার আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াস্বরূপ xAI তার X অ্যাকাউন্টের আয়-উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং আরও বেশি সংখ্যায় ভুয়া ছবি তৈরি করে।
X‑এর প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা, যারা মাসিক ফি প্রদান করে, তাদের পোস্টের উচ্চ সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন আয়ের একটি অংশ পেতে পারেন। স্ট ক্লেয়ার এই প্রক্রিয়াকে “অ-সম্মতিপূর্ণ যৌন চিত্রের উৎপাদন” হিসেবে উল্লেখ করে, xAI‑কে জনসাধারণের ক্ষতি সৃষ্টিকারী এবং নিরাপদ নয় এমন পণ্য বলে সমালোচনা করেন।
স্ট ক্লেয়ারকে প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গের মতে, এই মামলাটি কেবল তার ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার জন্য নয়, বরং AI প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে স্পষ্ট আইনি সীমানা নির্ধারণের লক্ষ্যে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, AI‑কে এমনভাবে ব্যবহার করা যা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া যৌনবিষয়ক চিত্র তৈরি করে, তা একটি জনসাধারণের বিরক্তি এবং নিরাপত্তাহীন পণ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
xAI এই অভিযোগের জবাবে স্ট ক্লেয়ারকে বিরোধী মামলা দায়ের করে, দাবি করে যে তিনি তাদের পরিষেবার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। কোম্পানির শর্ত অনুযায়ী, xAI‑এর সঙ্গে কোনো বিরোধ টেক্সাসে সমাধান করতে হবে, নিউ ইয়র্কে নয়। এই শর্তের লঙ্ঘনের ভিত্তিতে কোম্পানি তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
গোল্ডবার্গ এই প্রতিক্রিয়াকে “অসামান্য” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন মামলা করা অস্বাভাবিক, যেখানে মূলত তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, কোম্পানির আইনি কৌশলটি অনলাইন আচরণে তার প্রতি যে অবহেলা দেখিয়েছে, তার প্রতিফলন।
এই মামলাটি প্রযুক্তি ও আইনের সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট ভুয়া বিষয়বস্তু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মানবাধিকারকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যখন AI টুলগুলো ব্যবহারকারীর অনুরোধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌনবিষয়ক চিত্র তৈরি করে, তখন তা সামাজিক নৈতিকতা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।
xAI‑এর Grok টুলটি X‑এর মধ্যে সংযুক্ত একটি জেনারেটিভ মডেল, যা ব্যবহারকারীর ইনপুটের ভিত্তিতে টেক্সট, ছবি এবং অন্যান্য মিডিয়া তৈরি করতে সক্ষম। কোম্পানি দাবি করে যে তার পরিষেবার ব্যবহার শর্তে ব্যবহারকারীদের অনৈতিক বা অবৈধ অনুরোধ করা নিষিদ্ধ, তবে স্ট ক্লেয়ারের মামলায় বলা হয়েছে যে এই শর্তগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
প্রতিপক্ষের দাবি অনুযায়ী, স্ট ক্লেয়ার তার মামলা নিউ ইয়র্কে দায়ের করে, যা শর্তের বিরোধী। তবে আইনজীবী দল যুক্তি দেন যে, শর্তের অধীনে নির্ধারিত বিচারভূমি সীমাবদ্ধতা ব্যবহারকারীর মৌলিক আইনি অধিকারকে সীমাবদ্ধ করতে পারে, বিশেষ করে যখন বিষয়টি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার সঙ্গে জড়িত।
এই বিরোধের ফলাফল ভবিষ্যতে AI‑চালিত কন্টেন্টের নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি আদালত স্ট ক্লেয়ারের দাবিকে সমর্থন করে, তবে AI ডেভেলপার ও প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া যৌনবিষয়ক চিত্র তৈরি বন্ধ করতে বাধ্য করা হতে পারে। অন্যদিকে, যদি xAI‑এর শর্তের বৈধতা নিশ্চিত হয়, তবে AI পরিষেবার ব্যবহার শর্তে নির্ধারিত বিচারভূমি ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নতুন আলোচনার দরজা খুলে যাবে।
এই মামলাটি প্রযুক্তি, গোপনীয়তা এবং আইনের সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট ডীপফেকের সামাজিক প্রভাব ও আইনি দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে AI‑এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামো ও প্ল্যাটফর্মের নীতি উভয়ই সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।



