টি‑২০ বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে চলমান অচলাবস্থা সমাধানের লক্ষ্যে আইসিসি শনিবার ঢাকায় উপস্থিত হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অ্যান্টি‑করাপশন বিভাগের অন্তর্বর্তী মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ দেশের সীমান্তে পৌঁছেছেন এবং বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তবে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র এফগ্রেভই দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। অন্য সদস্যের অনুপস্থিতি আইসিসির কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না, কারণ এফগ্রেভই এখন পুরো আলোচনার দায়িত্বে আছেন।
অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ব্রিটিশ পুলিশ থেকে আইসিসিতে স্থানান্তরিত হয়ে অ্যান্টি‑করাপশন বিভাগের অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও পেশাগত পটভূমি এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিক, কারণ ভেন্যু পরিবর্তনের পেছনে সম্ভাব্য আর্থিক ও নৈতিক প্রশ্নগুলোকে তিনি সরাসরি মোকাবেলা করবেন।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর এফগ্রেভ বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সাথেও বৈঠক করবেন। এই বৈঠকগুলোতে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে। উভয় পক্ষই টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়েছে।
বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমানের মতে, প্রথমে ইমেইল মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপিত হয়, এরপর জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক সমঝোতা হয়। এখন উভয় পক্ষই মুখোমুখি আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যদিও বিসিবির অবস্থান পূর্বের মতোই অটল রয়েছে।
ইফতেখার আরও জানান, বিসিবি সর্বদা ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় এবং টুর্নামেন্টের কোনো বাধা না থাকলে তা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা অবশ্যই চাই খেলাটি চলতে থাকে, তবে নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।” এই বক্তব্যে দলটির নিরাপত্তা উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেই সবকিছু তদারকি করছেন বলে ইফতেখার জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এফগ্রেভের উপস্থিতি এবং সরাসরি আলোচনা শেষ পর্যন্ত একটি সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছাবে। বুলবুলের নেতৃত্বে বিসিবি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
প্রোগ্রামের মূল অংশে বিসিবি প্রেসিডেন্ট ও ভাইস‑প্রেসিডেন্ট উভয়ই উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ইফতেখার উল্লেখ করেন, “প্রেসিডেন্ট সাহেব ও ভাইস‑প্রেসিডেন্ট উনারা সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবেন, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক সংকেত।” এই উপস্থিতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে সহায়তা করবে।
বিসিবি বোর্ড ও সরকার উভয়ই দল ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষত ভারতীয় মাটিতে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। এ বিষয়টি আলোচনার মূল বিষয় হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের একক উপস্থিতি আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে সরাসরি সংলাপের সূচনা চিহ্নিত করে। যদিও ভেন্যু পরিবর্তন এখনও অনিশ্চিত, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি এখনও স্থবির, তবে সরাসরি মিটিংয়ের মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ছে।



