মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক) শুক্রবার বিকালে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা তথ্য অফিসের গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত বৈঠকে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা ও গণভোটের ফলাফলের ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং জনগণের অধিকার সচেতনতা ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ফারুক ই আজম উল্লেখ করেন, ২৪ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ ছিল তিনটি: গণহত্যা করা অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনা এবং দ্রুতই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে গণহত্যা মামলাগুলোর বিচার শুরু করেছে এবং বহু অপরাধীর শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া, ফ্যাসিবাদী শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠা রোধে সকল দলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ফারুক ই আজমের মতে, গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। তিনি জনগণকে আহ্বান করেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সমৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে ভিত্তি করে একসাথে কাজ করতে।
বৈঠকে তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ মালিকানা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্ট হয়।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মো. আসলাম উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য সরকারি কর্মী ছিলেন।
বৈঠকে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়া, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক রাকিব হাসান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বিএসএস) সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আউয়ালসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ফারুক ই আজমের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের পরিবর্তনের জন্য গণভোটে অংশগ্রহণই একমাত্র কার্যকর উপায় এবং ভোটের ফলাফলই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
নূরজাহান বেগমের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিক যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে কোনো সরকারই দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না; তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যোগ্য প্রার্থীর নির্বাচন অপরিহার্য।
বৈঠকের শেষে উপস্থিত সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফারুক ই আজম বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে ক্ষমতার কেন্দ্রে আনতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে।
এই বৈঠকটি গণভোট ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে সরকারী নীতি, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা হয়।



